মাঝে কিছু দিন ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও ভারত থেকে আমদানির খবরে কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম। প্রতি ডজন ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকেজ ১৪০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে বিক্রি হচ্ছে ডিম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিটি ডিমের খুচরা মূল্য ১২ ও ডজন ১৪৪ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় থেকে বাজারে গরম ছড়ানো ডিম ঠান্ডা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, হাতিরপুল ও রামপুরা বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে: বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৩৫-১৪০ টাকায়। অথচ গত রোববারেও ঢাকায় প্রতি ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।
ঢাকায় ডিমের বড় দুটি পাইকারি বাজার কারওয়ান এবং কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন: গত রাতে তারা প্রতি ১০০টি সাদা ডিম ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। পাইকারিতে এই দামে সাদা ডিম বিক্রি হলে ডজনপ্রতি দাম দাঁড়ায় ১০৮ টাকা। খুচরা বাজারে আরেকটু বেশিতে বিক্রি হলেও এখনকার তুলনায় ডিমের দাম আরও কমার কথা।
তেজগাঁওয় ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমানত উল্লাহ জানিয়েছেন: পাইকারিতে ১০০টি বাদামি ডিম কিনতে হাজার টাকার মতো লাগছে। তাতে খুচরা বাজারেও ডিমের দাম বেশ কমে এসেছে। আর দাম কমার কারণে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।
ট্রাকে করে খোলাবাজারে ডিম বিক্রি করা বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার জানান: পাইকারি বাজারে ডিমের দাম প্রতিটি ১০ টাকায় এসে গেছে। আজকে আমরা ৮০ হাজার ডিম বিক্রি করেছি। লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩৮ টাকায় আর সাদা ডিম ১৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ২ হাজার ৩৩৮ কোটি। আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৩৫ কোটি। দেশে উৎপাদিত এই ডিম দিয়েই চাহিদা মিটে যায়। এই ডিম খাওয়ার পাশাপাশি একটি বড় অংশ দিয়ে আবার বাচ্চাও ফোটানো হয়।
বাজার নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে যাওয়ার পর সরকার গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫টি কোম্পানিকে ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমোদনপত্র দেওয়া শুরু করে। তবে নানা জটিলতায় প্রথম চালান আসতে সময় লাগে ৪৯ দিন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এক কোটি ডিম আনার অনুমোদন পাওয়া বিডিএস করপোরেশন নিয়ে আসে এক ট্রাক ডিম। বন্দর পর্যন্ত তাদের প্রতিটি ডিমের আমদানি খরচ পড়েছে ৫ টাকা ২৯ পয়সা। প্রতিটি ডিমের জন্য শুল্ক গুনতে হয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সা। ফলে বন্দর পার হওয়ার পর ডিমের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রতিটি ৭ টাকা ০৯ পয়সা।
এই চালানে বেশ মুনাফা হয়েছে বিডিএস করপোরেশনের। প্রতিষ্ঠানটির মালিক দিপংকর সরকার বলেন: আমার ৬২টি হাজার ডিম অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিটি ১০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে হালি পড়েছে ৪০ টাকা।
আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে আরও ১০ লাখ ডিম বাজারে আসছে বলেও জানান দিপংকর সরকার।







