কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার পথে জঙ্গি ছিনতাই, নাশকতা রোধে জঙ্গিদের বিচার ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসকগণ আহ্বান করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের একটি কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসিরা জানতে চেয়েছেন করোনার সময়ের মতো ভার্চুয়াল কোর্টের ব্যবস্থা করা যায় কি না। তারা বলেছেন, বিশেষ করে জঙ্গিদের আদালতে আনা নেওয়া করায় কিছুটা ঝুঁকি থাকে। তাই ভার্চুয়াল কোর্টের কথা বলেছেন ডিসিরা। ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য বিচারক, আইনজীবী ও আসামির কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে একটি খসড়া গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সেটা যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হবে। তা ছাড়া ভার্চুয়াল আদালতের বিচার পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি কোনো জটিলতা আছে কি না সেগুলো খতিয়ে দেখব।
জানা যায়, এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৮তম সভার কার্যবিবরণীতে জঙ্গি অপরাধীদের বিচারিক কার্যক্রম ভাচুয়াল আদালতে করার বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন ও বিচার বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। বিষয়টি গত ১৪ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম সভায়ও আলোচনা হয়।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। ডিসিদের অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে। বিশেষ করে রোজার আগে তারা যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহযোগিতা করে।
প্রতি মাসে আইনশৃঙ্খলা কোর কমিটির সভা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ডিসিদের সভায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কোর কমিটির সভা যেন প্রতি মাসে তারা করেন। যাতে করে সবার সঙ্গে সবার একটা বোঝাপড়া থাকে। যেন কোনো অসুবিধা হলে সেটা দ্রুত সমাধান করা যায়। সভায় ডিসিদের আরও নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা ইয়াবা ও এলএসডির মতো মাদকের বিরুদ্ধে সামজিক সচেতনতা গড়ে তোলেন। আমরা ধূমপানের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এখন দেখা যায় প্রকাশ্যে কেউ ধূমপান করে না। কেউ ধূমপান করলে তা আড়ালে করে।
নদীপথে যত্রতত্র বালু উত্তোলন নয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: নদীপথে যেন যত্রতত্র বালু উত্তোলন না করা হয় সে জন্য ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। ডিসিদের যখন প্রয়োজন তখনই নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পাশে থাকবে।








