ফিল্ড হকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জায়গা করে নিতে তিন ম্যাচের প্লে-অফে প্রথমটিতে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের কাছে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে রেজাউল করিম বাবুর দল। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। ম্যাচের পর নিজেদের হারের পিছে ভুলগুলো তুলে ধরেছেন স্বাগতিক অধিনায়ক।
রেজাউল করিমরা এতো বড় হারের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। অধিনায়ক বললেন, ‘নিশ্চিতভাবে ৮-২এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমাদের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম, সে অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আর পেনাল্টি কর্নারগুলোতে যদি আমরা, যে যে দুটি পোস্টে লেগেছে, ওই দুটি যদি গোল হতো, হয়তবা ব্যবধান আরেকটু কমে আসত। টেকনিক্যাল কিছু ভুলের কারণে আমরা তিন-চারটা হজম করেছি। চেষ্টা করব পরের ম্যাচে ভুলগুলো শোধরানোর জন্য।’
‘পাকিস্তানের সাথে আমরা সবসময় ফুল প্রেসে খেলতে পারব না। ওদের সাথে আমাদের শারীরিক সক্ষমতার একটা পার্থক্য আছে। সেজন্য আমাদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ মনে করেছেন, আমরা একটু চড়াও হয়ে খেলতে পারি, সেখান থেকেই আমাদের একটু প্রেসিংয়ে যাই।’
‘ভুলটা ছিল আমাদের, যেমন আমরা যখন অ্যাটাকে যাচ্ছিলাম, কাউন্টার কন্ট্রোলটা করতে পারিনি। সেটা আমাদের ব্যক্তিগত ভুল। যেমন ডিফেন্সের ব্যক্তিগত ভুলের কারণে গোলগুলো হয়েছে। জেনারেলি স্টপিং মিসগুলো হওয়ার কথা না, সেখানে আমরা স্টপিং তিনটা মিস করেছি। এটা আমাদের ব্যর্থতা, যেহেতু আমরা স্টপিং মিস করেছি, এখানে আরও সতর্ক হওয়া উচিত খেলার সময়।’
প্রথম কোয়ার্টারের তিন মিনিটের দিকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফাউল করেছিলেন রোমান সরকার। তার মাথায় স্টিকের আঘাত লাগে, আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হয় স্বাগতিক তারকাকে। সেটি নিয়েও বললেন অধিনায়ক।
‘আধুনিক হকিতে এখন আর পজিশন বলে কিছু নাই। যেকোনো প্লেয়ার যেকোনো জায়গায় খেলতে পারেন। যদি পাকিস্তানের খেলা দেখেন, ওদের ডিফেন্সে কিন্তু ফরোয়ার্ড এসেও খেলেছে। আর সবুজের ব্যাপারটা কোচ মনে করেছে, সে আক্রমণে সহায়তা করতে পারবে। তার গোল করার ক্ষমতা ভালো , স্কোরিং পাওয়ারটা ভালো, এজন্য তাকে আক্রমণে রাখা হয়েছে। অনেকটাই প্রভাব পড়েছে। কারণ রোমান আমাদের টিমের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তার শূন্যতা আসলে জুনিয়ররা পূরণ করতে পারেনি। সে থাকলে হয়তবা আরেকটু আমরা সাপোর্ট পেতাম।’
বড় ব্যবধানে হারের মাঝেও কিছু ক্ষেত্রে সফল ছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক বললেন, ‘পজিটিভ যেটা হচ্ছে, পেনাল্টি কর্নারে গোল কত কম খাওয়া যায়, সেদিক থেকে আমরা একটু সফল হয়েছি বলতে পারেন। তবে আমাদের ফরোয়ার্ডরা বল অনেক কম পেয়েছে। এই জিনিসগুলো নিয়ে পরের ম্যাচে হয়তবা কাজ করলে আরও ভালো হবে।’








