জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার ৭৬ শতাংশ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চ তাপমাত্রায় ভুগছে। দ্য ইউনাইটেড ন্যশনস চিল্ড্রেন্স ফান্ড (ইউনিসেফ) এ বিষয়ে সতর্ক করেছে।
সোমবার (৭ আগস্ট) এক টুইটবার্তায় ইউনিসেফ বলেছে, এ মুহূর্তে দেশগুলো বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ নয়। তবে, এখানকার তাপ লক্ষ লক্ষ শিশুর জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি বহন করে।
ইউনিসেফ বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ শিশু ইতিমধ্যেই উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে রয়েছে। এসব দেশগুলোতে ১৮ বছরের কম বয়সী ৭৬ শতাংশ অর্থাৎ ৪৬ কোটি শিশু উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে। বছরে ৮৩ দিন বা এর বেশি সময় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকছে এসব দেশে। দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারীরা ভবিষ্যতে ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়ার প্রাদেশিক পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে লক্ষ লক্ষ শিশুর জীবন উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। নবজাতক, শিশু, অপুষ্ট শিশু ও গর্ভবতী নারীদের সম্পর্কে আমরা উদ্বিগ্ন, কারণ হিট স্ট্রোক এবং অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন তারা।
উচ্চ তাপমাত্রা শিশুদের দ্রুত হৃদস্পন্দন, ক্র্যাম্প, মাথাব্যথা, ডিহাইড্রেশন ও জ্ঞান হারানোর মত নানান অসুস্থতার কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। এছাড়া, শিশুদের মধ্যে দুর্বল মানসিক বিকাশ ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের মতোও সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারীরা উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি, অকাল প্রসব এবং মৃত সন্তান জন্মদানের মত নানান ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
এর আগে, ২০২১ সালে চিলড্রেনস ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স সিসিআরআই জানিয়েছে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ এবং পাকিস্তানের শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে রয়েছে।
উইজেসেকেরা বলেন, শিশুরা তাপ সহ্য করতে পারে না। এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ না নেয়া হলে, শিশুদের কোন দোষ না থাকা সত্ত্বেও আগামী বছরগুলোতে তারা আরও ঘন ঘন ও তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হবে।








