রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চালসহ শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্য এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বর্তমানে তুলনামূলক বেশি।
ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে একেকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও চাপ কমছে না সাধারণ মানুষের ওপর। গত এক সপ্তাহে চালের দাম নতুন করে না বাড়লেও আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। ভরা মৌসুমেও শীতকালীন সবজি ও পেঁয়াজের দাম রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী।
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামের কারণে আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে।
বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগেও একই ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে।
এদিকে মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়- এখনকার এই দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। আজকের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ ও চাহিদা-দুটোই প্রায় সমান থাকায় দাম আগের জায়গাতেই স্থির রয়েছে।
আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। বাজারে কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে আজকের বাজারে ইলিশের দামও চড়া রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হওয়া এই আলু এখন বাজার ও মানভেদে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু আলুর দামই নয়, ফুলকপির দামও এখন চড়া। ছোট আকারের একেকটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দামে। কয়েক দিন আগেও প্রতিটি ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এদিকে বাজারে নানা জাতের বেগুন বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে মান ও জাতের বিবেচনায় কিছু বেগুন প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালোমানের কিছু বেগুন বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিমের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সাধারণ মানের সবুজ শিম প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা ক’দিন আগেও ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় নেমে এসেছিল। তবে ভালোমানের শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। একইভাবে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া দেশি লাউ এখন প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
তবে খানিকটা সহনীয় দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। বড় আকারের প্রতি পিস বাঁধাকপি বাজারভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভরা মৌসুম হলেও টমেটোর দাম এখনো চড়া। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গাজরের দাম খানিকটা কম। বাজারভেদে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। সেইসঙ্গে দামও বেশ কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন ৫০ টাকা কেজি দরেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ভ্যানগাড়ির বিক্রেতারা এই দামে বিক্রি করলেও মুদি দোকানগুলোতে মানভেদে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।








