নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনকে (এসআইআর) লক্ষ্য করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নারী ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ পোস্টের কাছে কোথাও যাবেন না। তিনি বলেন, তার সরকার কাউকে বাংলা থেকে বের করে দিতে দেবে না।
বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বাংলার কৃষ্ণনগরে এক সমাবেশে মমতা ব্যানার্জি বলেন, রাজ্যের নারীদের ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করার সময় এসআইআরের নামে যদি মা ও বোনদের নাম মুছে ফেলা হয়, তবে রান্নাঘরের সরঞ্জাম নিয়ে আপনারা প্রস্তুত থাকবেন।
বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় দিল্লি থেকে পুলিশ এনে তারা মা-বোনদের ভয় দেখাবে, এসআইআরের এর নামে মা-বোনদের অধিকার কেড়ে নেবে, তা হবে না।
তিনি আরো বলেন, তিনি দেখতে চান কে বেশি শক্তিশালী, মহিলারা না বিজেপি।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বলেন, “আমি সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি না। আমি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি। যখনই নির্বাচন আসে, বিজেপি টাকা ব্যবহার করে অন্য রাজ্য থেকে লোক নিয়ে এসে মানুষকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে।”
রোববার কলকাতায় আয়োজিত জনসমাবেশে গণভগবত গীতা পাঠের কথা উল্লেখ করে মমতা ব্যানার্জি বলেন, “আমরা সবাই যখন প্রয়োজন হয়, তখনই ঘরে বসে গীতা পাঠ করি। তাহলে জনসমাবেশে কেন? যারা গীতা নিয়ে চিৎকার করেন, আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, ভগবান কৃষ্ণ কী বলেছিলেন? ধর্ম মানে পবিত্রতা, মানবতা, শান্তি। হিংসা, বৈষম্য এবং বিভাজন নয়।”
তিনি আরো বলেন, “রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা মানুষকে বিভক্ত করেননি। তাহলে আপনারা কে?”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা এবং দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা বাংলার জনগণকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা ভারতের নাগরিক।
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি তার আইটি সেলের তৈরি তালিকা অনুসারে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে। মনে রাখবেন, বিহার পারেনি, কিন্তু বাংলা পারবে, আপনি যাই করেন না কেন।”







