রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে কিশোরী ও তরুণীদের বয়ঃসন্ধিকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জরায়ুর মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাদান উপলক্ষ্যে অর্ধদিবসব্যাপী এক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার ১৬ সেপ্টেম্বর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সকালে ইডেন কলেজের শিক্ষক, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং ইডেন কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজ ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। বাদ্যের তালে তালে র্যালিটি ইডেন কলেজের ঐতিহ্যবাহী পুকুর পাড় ঘুরে মুল ফটকে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে কলেজের অডিটরিয়ামে ‘এওয়ারনেস অফ ইয়ুথ এন্ড এডোলোসেন্ট হেলথ এন্ড প্রিভেনশন অফ সার্ভিক্যাল ক্যান্সার’ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যঘর উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়। ইডেন মহিলা কলেজ এবং আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইয়াহা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সচেতনতামূলক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটির
সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শামসুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্টেট্রিকস এন্ড গাইনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, দেশের প্রখ্যাত গাইনি চিকিৎসক এবং প্রজন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সেহেরীন এফ. সিদ্দিকা। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপনে অধ্যাপক ডা. সেহেরীন এফ. সিদ্দিকা বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক কিশোরী, তরুণীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দরকার। একারণে
কিশোরী স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুষম খাদ্যের ওপর জোর দিতে হবে। প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তিনি কলেজের শিক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন।
তিনি বলেন, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য, নারী শক্তিকে জোরদার করার জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই প্রতিটি মেয়েকে সচেতন হবে। জীবনের জন্য যা যা ক্ষতিকর তা পরিহার করতে হবে। কী-নোট উপস্থাপনায় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ৫ কোটি নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকিতে আছে। প্রতিবছর এই ক্যান্সারে ১০ হাজার নারী মারা যায়। ভ্যাকসিন নেওয়ার মধ্যে দিয়ে এই মৃত্যু ও ঝুঁকি পরিহার করা সম্ভব। সবাইকে এ বিষয়ে তাই সচেতন হতে হবে। অনুষ্ঠানের চেয়ারপার্সন ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শামসুন নাহার বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মেয়েদের নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গভীরভাবে জানা ও তা সুরক্ষার পথ তৈরি হবে। রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ইয়াহা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আবিদ হোসেন মোল্লা, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাক্তার সায়রা তাসনিম, ইডেন মহিলা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর খালিদা ইয়াসমিন, ইডেন মহিলা কলেজের টিচার্স কাউন্সিল অব দ্য কলেজ প্রফেসর মাহফিল আরা বেগম, পুষ্টিবিদ ডাক্তার শামসুন্নাহার নাহিদ এবং মেরি স্টোপস বাংলাদেশের এডভোকেসি লিড মনজুন নাহার। ইনসেপ্টার পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
এসিস্ট্যান্ট সেলস মানেজার শহীদুল ইসলাম এবং সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার হোমায়রা ফাতেমা অনন্যা । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রীতা হালদার।
অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ইডেন মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক ফেস্টুন, ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়। এখানে উল্লেখ্য যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইনসেপ্টা প্রমবারের মতো প্যাপিলোভ্যাক্স্ ৩৯ নামে ভ্যাকসিন তৈরি করে আসছে। ৯-৪৫ বছর বয়সের সকল নারী এই ভ্যাকসিনটি নিয়ে জরায়ুমুখ ক্যান্সার সহজেই প্রতিরোধ করতে পারবে।








