দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত পাঁচটি সংস্কার কমিশনের প্রধানেরা যৌথভাবে তাদের সুপারিশমালার আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কারসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে তা জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক যৌথ চিঠিতে তারা এ আহ্বান জানান।
তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ জন্য যথাযথ ও সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। গতকাল রোববার (৩ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়।
তারা বলেন, প্রথম পর্যায়ে গঠিত ছয়টি বিষয়ভিত্তিক কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ চালিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত কমিশনসমূহের সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রমও সমানভাবে জরুরি বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অত্যাবশ্যক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অন্তত দুটি কার্যকর পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করতে পারে। প্রথমত, এখনই যেসব সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো বাছাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা; দ্বিতীয়ত, এসব সংস্কার নির্বাচিত সরকার অব্যাহত রাখবে—এই মর্মে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যে বিষয়গুলো জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা।
কমিশন প্রধানেরা আরও বলেছেন, জুলাই সনদে গণমাধ্যম, নারী, শ্রম, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার— বিষয়ক সংস্কারসমূহ অন্তর্ভুক্ত না হলে রাজনৈতিক দলগুলো ভবিষ্যতে তা বাতিল বা উপেক্ষা করার সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে, জনমানসে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক, নারী ও সাংবাদিক জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ থেকে যে আশা ও স্বপ্ন জন্ম নিয়েছে, তা উপেক্ষিত হলে তা ব্যাপক হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। তাঁরা একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পণের জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন শ্রম সংস্কার কমিশন প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রধান শিরীন পারভিন হক, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন প্রধান তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন প্রধান জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ।








