‘হাওয়া’-র অভাবনীয় সাফল্যের পর নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন ফিরছেন তার দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নিয়ে। ছবিটি নিয়ে এরআগে খুব বেশী তথ্য দেননি নির্মাতা কিংবা প্রযোজক। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এলো সিনেমার ট্রেলার!
এদিন আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলো ‘রইদ’ এর ট্রেলার। মুক্তির আগেই ছবিটি বাংলাদেশের সিনেমার জন্য বয়ে এনেছে এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক অর্জন, সে খবরও প্রকাশ করলেন এদিন!
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’-এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে ‘রইদ’।

‘রইদ’ সংশ্লিষ্টরা এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য রটার্ডামের এই বিভাগে নির্বাচিত হওয়া এটিই প্রথম ঘটনা, যা বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এই উৎসবে এর আগে ক্রিস্টোফার নোলান ও বং জুন-হো’র মতো বিশ্বখ্যাত নির্মাতারা তাদের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কাজ প্রদর্শন করেছিলেন।
মঙ্গলবারের আয়োজনে ছবিটির পেছনের ভাবনা ও দর্শন নিয়ে কথা বলেন পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন। তিনি বলেন, “সাদু, তার পাগল স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের তালগাছকে ঘিরে আবর্তিত এই গল্পে আমরা আদতে আদম ও হাওয়ার আদিম আখ্যানকেই খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমরা সেই হাজার বছরের পুরনো আখ্যানকে বর্তমানে পুনর্নির্মাণ করেছি—তবে সময়ের বর্তমানে নয়, বরং অনুভূতির বর্তমানে। এই ছবির প্রতিটি স্তরে জড়িয়ে আছে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের দেখা গ্রামীণ বাংলার আবহ।”
চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ-এর পক্ষ থেকে প্রযোজক মুশফিকুর রহমান বলেন, “দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সবচেয়ে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় যে স্বল্প সংখ্যক নির্মাতা আমাদের আশার আলো দেখিয়েছেন মেজবাউর রহমান সুমন তাদের মধ্যে অন্যতম। রইদের প্রযোজক হিসেবে বঙ্গ আনন্দিত ও গর্বিত। হাওয়ার পর রইদ। দারুণ একটা ব্যাপার! নামের মধ্যেই বোঝা যায় হাওয়ার নির্মাতার একটা বৃহৎ একটা পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বঙ্গ আগের চেয়ে অনেক বেশী আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী।”
এই প্রযোজক আরো বলেন,“একটা কথা না বললেই নয়, আজকে আমাদের সিনেমা হল তথা সিনেমার যে বিপর্যস্থ অবস্থা, তা কাটিয়ে উঠতে হলে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর এ ধরনের প্রযোজনায় এগিয়ে আসতে হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ‘রইদ’ শুধু দেশের দর্শকদেরই নয়, বিশ্বজুড়ে আমাদের অগণিত দর্শকদেরও মন জয় করবে।”
ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ আরও অনেকে।
‘রইদ’-এর গল্প লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন ও সেলিনা বানু মনি। চিত্রনাট্য লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ এবং সুকর্ণ শাহেদ ধীমান। দর্শকদের জন্য ছবিটি আগামী বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।








