প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, শেখ হাসিনার বহিষ্কার (ভারত থেকে) এখন আর কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয় নয়—এটি একটি স্পষ্ট আইনি ও নৈতিক প্রয়োজনীয়তা। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজ প্রকাশিত সাম্প্রতিক নথি ও অডিও রেকর্ডিংগুলো এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অনেক বাংলাদেশি আশঙ্কা করলেও উপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে প্রেস সচিব এসব তথ্য জানান।
তিনি লিখেছেন, নেত্র নিউজের তথ্যমতে, বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা একদিকে ইংরেজি ভাষায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিজেকে ‘আরোগ্য’, ‘ন্যায়বিচার’ ও ‘স্থিতিশীলতার’ প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে বাংলায় রেকর্ড করা বক্তব্যে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে সরাসরি প্রতিশোধ, অগ্নিসংযোগ, লক্ষ্যবস্তু হত্যা এবং সশস্ত্র সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেস সচিব আরও লিখেছেন, এই বক্তব্যগুলো কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বা বিরোধীদের অভিযোগ নয়। এগুলো শেখ হাসিনার নিজের কণ্ঠে দেওয়া নির্দেশনা, যা স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা ফরেনসিকভাবে যাচাই করা কয়েক ডজন অডিও রেকর্ডিংয়ে সংরক্ষিত আছে। এসব রেকর্ডে তিনি “চোখের বদলে চোখ” নীতির কথা বলেন, বিরোধীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং আদালতের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগকে উৎসাহিত করেন। এমনকি তিনি সেনাবাহিনীকে বিদ্রূপ করেন বিচারিক প্রক্রিয়া মেনে চলার জন্য।
শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রভাব বিষয়ে তিনি লিখেছেন, শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক ও মারাত্মক। এসব আহ্বান ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশে অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা, লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড এবং নির্বাচনী সহিংসতার হুমকি নতুন করে বেড়ে যায়। এটি বিমূর্ত রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; বরং বাস্তব সহিংসতার নির্দেশনা—যার ফলে প্রাণহানি ঘটেছে।
ভারতে শেখ হাসিনার আশ্রয়ের যৌক্তিকতাকে প্রশ্ন করে প্রেস সচিব লিখেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সহিংসতা উসকে দেয়, রাজনৈতিক হত্যাকে বৈধতা দেয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান জানায়, তাকে কোনো দেশেই নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া যায় না। এমন ব্যক্তিকে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার’ নামে আশ্রয় দেওয়া নিরপেক্ষতা নয়—এটি কার্যত সহিংসতার প্রতি নীরব সমর্থন। শেখ হাসিনা কোনো ‘ভুল বোঝাবুঝির শিকার নির্বাসিত নেতা’ নন। তিনি একজন দোষী সাব্যস্ত অপরাধী, যিনি ক্ষমতা হারানোর পরও ভয় ও রক্তপাতের মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। সীমান্ত পেরিয়ে তাকে আশ্রয় দেওয়া মানে বাংলাদেশে ন্যায়বিচারকে বিলম্বিত ও দুর্বল করা।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম সবশেষে লিখেছেন, এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অপরিহার্য—প্রতিশোধের জন্য নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ভুক্তভোগীদের প্রতি সম্মান জানানো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য যে মানবতাবিরোধী অপরাধ নির্বাসনের মাধ্যমে মুছে যায় না।







