বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-২ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হত্যার দায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা এড়াতে পারবেন না। তাদের জবাব দিতে হবে। হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামের পাশে যোগ হয়েছে আপসহীন নেত্রী। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি যে আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন এটাই তার প্রমাণ। তার জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতি, জনতার ঢল, তার প্রতি ভালোবাসার বিনম্র শ্রদ্ধা, এটাই প্রমাণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের মা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন জনগণের মা।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক নয় জানিয়ে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে। তাকে স্লো পয়জনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। কারণ খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের জণগণের অভিভাবক। এই বিষয়টা মেনে নিতে পারেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি বেগম জিয়াকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছেন। এই মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু বলব না। তাকে স্লো পয়জোনিং মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। এর দায় শেখ হাসিনা কোনো ভাবেই এড়াতে পারবেন না। তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
আমানউল্লাহ আমান বলেন, একজন বীর উত্তমের স্ত্রী, একজন সেনাপ্রধানের স্ত্রী ও একজন রাষ্ট্রপতির স্ত্রী হিসেবে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ন্যূনতম চিকিৎসা পেলেন না। কারণ তাকে স্লো পয়জনের মাধ্যমে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল, সেটিই আজকে হয়েছে। এই হত্যার দায় আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা এড়াতে পারবেন না। তাদের জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বেগম জিয়ার জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে তিনি দেশ ও জণগণের অভিভাবক। তিনি বলেছিলেন আমার ঠিকানা বাংলাদেশ। আমার ঠিকানা বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ। আমি বিদেশে যাব না। কিন্তু অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই মাটি ছেড়ে যাননি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হচ্ছে আজ। বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাগফেরাতের জন্য মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বাংলাদেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে মারা যান খালেদা জিয়া। তাকে গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়াকে বুধবার জিয়া উদ্যানে স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন।








