অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের জন্য হয়ে থাকল স্মরণীয়। স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করার পর প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে তারা।
বল হাতে বাংলাদেশের সাফল্যের মূল কারিগর হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান এই পেসার। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে পেসারদের মধ্যে এটি তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার।
দিনের শুরুতে ডারউইনের উইকেটে থাকা আর্দ্রতা ও সিম মুভমেন্টকে কাজে লাগিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। হাসানের ভাষায়, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ছিল বোলারদের মধ্যে দারুণ সমন্বয়।
‘উইকেটটা সকালে অনেক একটু ময়েশ্চার ছিল, তারপরে সফট ছিল এবং সিম মুভমেন্ট হচ্ছিল। তো আমরা যেটা প্ল্যান করেছিলাম যে, আমরা খুবই ডিসিপ্লিনড বোলিং করব, পার্টনারশিপ বোলিং করব, এবং সেটাই হয়েছে। এবাদত, তাসকিন- ওরা একপাশ থেকে খুবই ভালো বোলিং করেছে এবং প্রেশারটা আলটিমেটলি আমরা বিল্ড করতে পেরেছিলাম। আর শেষটা ভালো হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শুরুতে অবশ্য স্বাগতিকরা ৪৫ রানে কোন উইকেট না হারিয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করেছিল। এরপর হাসান পরপর আঘাত হেনে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করেন। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে চাপ ধরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
বোলারদের পারফরম্যান্সের পর ব্যাটাররাও দিনটি বাংলাদেশের করে নেয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন। সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু এনে দেন। শাদমান ২২ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে আউট হলেও এরপর তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক দিনের শেষপর্যন্ত ৬০ রানের জুটি গড়েছেন। তানজিদ ৩২ এবং মুমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন।
ব্যাটিংয়ের শুরু নিয়েও সন্তুষ্ট হাসান। তবে শাদমানের আউটটি আক্ষেপের বলে মনে করছেন তিনি।
“এখন ব্যাটারদের কথা যদি বলি, আমরা খুবই ভালো স্টার্ট করেছি। দুর্ভাগ্য যে, সাদমান ভাই শেষ করতে পারেনি, কিন্তু এখন যে পার্টনারশিপ হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ এটা ক্যারি আউট করতে পারলে বড় একটা ইনিংস আমরা খেলতে পারব।”
প্রথম দিন শেষে তাই ম্যাচে চালকের আসনে থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বছর পর তাদের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দিনেই স্বাগতিকদের মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে সেই চাপের বড় অংশই এখন বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর। দ্বিতীয় দিন তানজিদ-মুমিনুলের জুটি কতটা লম্বা হয়, সেটিই হতে পারে ম্যাচের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


