পাহাড়ঘেঁষা চট্টগ্রাম শহরে একসময় ছিল ২৭ টি সিনেমা হল। সেই চিত্রটা আর আগের মতো নেই। শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরলেও দেখা যায়নি চালু সিনেমা হল। বরং নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে আলমাস নামে একটি হল বন্ধ দেখা যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করলে তারা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, হলের পরিবেশ তো আগের মতো নেই। ইচ্ছা থাকলেও আসতে পারেন না। যান্ত্রিক শহরে বিনোদনের জায়গাগুলো ক্রমেই কমে আসছে।
তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আবার সিনেমা হল ব্যবসা আগের অবস্থায় ফিরতে পারে। সরিজমিনে দেখা যায় যায়, মূল শহরের কাজীর দেউড়ি এলাকার ‘সুগন্ধা’ সিনেমা হলটি চালু আছে। পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর গেল বছর ২৭ জানুয়ারি হলটি সংস্কার করে চালু হয়।
সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের এ শহরে রমরমা সিনেমা ব্যবসার সম্ভাবনা থাকলেও নেই পর্যাপ্ত হল। তবে সম্প্রতি আশার আলো হিসেবে সেখানকার চকবাজারের বালি অর্কেড শপিং মলে চালু হয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখা। গেল সপ্তাহেই সুগন্ধা সিনেমা হল ঘুরলে দেখা যায়, সেখানে চলছে আশুতোষ সুজন পরিচালিত ছবি ‘দেশান্তর’। চালু থাকা সুগন্ধা সিনেমা হল নিয়ে কথা হয় হলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাদত হোসেনের সঙ্গে।
কয়েক দশক ধরে সিনেমা হল ব্যবসায় জড়িত সাহাদত হোসেন। তিনি বলেন, ১৫০ টাকা এবং ২২০ টাকার টিকেটে আমরা যে সার্ভিস দিচ্ছি এমন সার্ভিস দেশের কোনো হল দিতে পারবে না। আমাদের এখানে কিছু ফিক্সড ফ্যামিলি অডিয়ান্স আছে। যারা সুন্দর পরিবেশে এসে সিনেমা উপভোগ করে। ব্যবসা করাটাকে আমরা পরে রেখে মানুষকে আরামে ছবি দেখার গ্যারান্টি নিশ্চিত করি। এখন আমাদের শুধু ভালো ভালো ছবি দরকার।
স্টারের সংখ্যা কম বিধায়, ভালো ছবি তৈরি কম হচ্ছে বলে মনে করেন সুগন্ধা সিনেমা হলের এই মালিক। তিনি বলেন, একজন শাকিব খান আছেন। তার মতো বড় স্টার কজন আছে? তিনি একা আর কতো ছবি দেবেন? পাশের দেশের শাহরুখ খানের মুভি অনেকদিন না থাকলেও সালমান খানের মুভি আছে। অক্ষয়, হৃত্বিকদের মুভি আছে। কিন্তু আমাদের এখানে শাকিব খানের মতো বড় স্টার আর নেই। যদি থাকতো তাহলে আরও মুভি হতো।
সুগন্ধা সিনেমা হলের মালিক সাহাদত হোসেন বলেন, শুধু চট্টগ্রামের সিনেমা হল নয়, শাকিব খানের সিনেমা সারাদেশে চলে। পুরো বাংলাদেশ জুড়ে তার ছবির অপেক্ষায় থাকে দর্শক। বিদেশেও যদি মুক্তি দেয়া যায় তাও চলবে। বাংলাদেশে ফিল্ম স্টার বলতে এখন উনি একজনই এটা মানতেই হবে। উনি ছবি কম করেন, তারপরেও আমরা চাই প্রতিবছর তার কাছে তিনটা করে ছবি। তার শিকারী, নবাব, পাসওয়ার্ড দিয়ে আমরা বুঝেছি তাকে দিয়ে কমার্সিয়াল খুবই উন্নতমানের ছবি করা সম্ভব। তার যে মার্কেট প্রযোজকরা তাকে নিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০-২৫ কোটি টাকার ছবি বানাতে পারেন। আমরা হলমালিকরা তার কাছে আরও উন্নত কোয়ালিটির ছবি চাই এবং উনি অবশ্যই পারবেন। কারণ, তিনি স্ক্রিনে এলেই দর্শক হ্যাপি হয়।
সিনেমা চলার দুটি প্রধান দিক উল্লেখ করে সুগন্ধা হলের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো হলে মানুষ আসবেই। ছবি চলার আরেকটি দিক হচ্ছে, স্টারদের নিয়ে পাবলিসিটি। তারা পাবলিটিসি না করলে যত ভালো ছবি হোক চলবে কম। এখানে যেসব ছবি চলেছে সবগুলো চলার অন্যতম কারণ ছিল স্টারদের পাবলিসিটি। শাহরুখ খান, সালমান খানরাও তাদের ছবি ফিল্ডে নেমে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে পাবলিসিটি করে।
যোগ করে বলেন, দুই শতাধিক আসন নিয়ে চালু রয়েছে আমাদের সুগন্ধা হল। ভালো সিনেমার অভাবে হল টিকিয়ে রাখাই এখন কষ্টকর ব্যাপার। ধ্বংসস্তূপে থাকা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে ২০ পারসেন্ট উন্নতি হয়েছে। সেটাও মিশন এক্সট্রিম, রাত জাগা ফুল, রেহানা মরিয়ম নূর, পরাণ, হাওয়া ছবিগুলোর মাধ্যমে। অনেকদিন পরপর এমন দু একটা ভালো ছবি এলে তো চলা কষ্টকর হবেই। তবে আমরা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।
চট্টগ্রাম থেকে ফিরে, নাহিয়ান ইমন








