যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে ২৫ দিন পর বসবে ফিফা বিশ্বকাপ। ৫২ বছর পর জায়গা করে নিয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দেশ হাইতি। টিকিট নিশ্চিত করতে তারা পেছনে ফেলে এসেছে তুলনামূলক শক্তিশালী হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, জ্যামাইকার মতো দেশকে। এই অর্জনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন প্রবাসী এবং বিদেশী ক্লাবে খেলা তারকারা। আসরের জন্য ২৬ সদস্যের দল দিয়েছে তারা, যার কেবল একজন দেশটির ঘরোয়া লিগে খেলেন।
হাইতি জাতীয় দলকে ডাকা হয় ‘লে গ্রেনাডিয়ার্স’ নামে। সেন্ট্রাল আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ১৯৭৪ সালে ওয়েস্ট জার্মানিতে সর্বপ্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করেছিল দেশটি। আসন্ন আসরের আগে আর খেলা হয়নি তাদের।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে লে গ্রেনাডিয়ার্স এমন এক দল নিয়ে অংশগ্রহণ করবে, যার প্রায় সবাই থাকেন দেশের বাইরে। প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে শুক্রবার ৫২ বছর পর হাইতির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের দল জানিয়েছেন। তিনি মূলত ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, সাউথ আমেরিকা এবং এশিয়ার ক্লাবগুলো থেকে খেলোয়াড় নির্বাচন করেছেন।
হাইতির ক্লাব ভায়োলেট অ্যাথলেটিক পিয়ের ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই প্রধানত ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় গড়ে উঠেছেন। স্কোয়াডের একমাত্র মিডফিল্ডার উডেনস্কি পিয়েরে হাইতির ঘরোয়া লিগ খেলেন।
দলটির ২৬ জনের ১০ জন খেলোয়াড়ের জন্ম হাইতিতে, যার মধ্যে ৭ জন বাল্যকালে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসে। জেন-জ্যাকস ড্যানলি এবং কার্লেন্স আর্কাস ব্রাজিলের একাডেমি, ফ্রান্টডি পিয়েরট যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ দলে এবং লুইসিয়াস ডিডসন যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিতে বেড়ে ওঠেন। দুজন ফ্রান্সে এবং একজন বেলজিয়ামে বেড়ে উঠেছেন। যার মধ্যে উইলগুয়েন্স পুগেইন ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে এবং হ্যানেস ডেলক্রোইক্স বেলজিয়ামের বয়সভিত্তিক দলে খেলে পরে হাইতিতে যোগ দেন। এদের মধ্যে বাকি সবাই হাইতির বয়সভিত্তি দল থেকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
শুধুমাত্র কার্ল-ফ্রেড সেইন্থে, রিকার্ডো অ্যাডে এবং উডেনস্কির বেড়ে ওঠা এবং পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হাইতি থেকে। তবে সেইন্থে গত ৪ বছর মেজর লিগ সকার এবং অ্যাডে বিভিন্ন সময় অন্যদেশের ক্লাবে খেলে এসেছেন। বর্তমানে তিনি ইকুয়েডরে খেলছেন।
দলের বাকিদের মধ্যে ১১ জনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। দুজন যুক্তরাষ্ট্রে, একজন কানাডা, একজন সুইজারল্যান্ড এবং একজন ফ্রান্সের অধীনে থাকা ক্যারিবীয় দ্বীপ গুয়াদেলুপেতের বাসিন্দা।
কোচের দল নির্বাচনের গল্প শুরু হয়েছিল বাছাইপর্ব থেকে। হাইতি ফেডারেশন (এফএইচএফ) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মিগনে বলেছিলেন, ‘এটি খেলোয়াড়দের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। বিশ্বকাপে খেলা তাদের কঠোর পরিশ্রমের সর্বোচ্চ পুরস্কার। যেকোনো বড় প্রতিযোগিতার আগে এটি একটি প্রতীকি মুহূর্ত। বিশেষ করে এটি এমন একটি বিশ্বকাপ আমাদের জন্য, যেখানে হাইতি ৫২ বছরের বহু প্রতীক্ষার পর অংশগ্রহণ করছে।’
মিগনে মূলত বাছাই অতিক্রম করা সেই ২২ জনের মূল দলটির প্রতি ভরসা রেখেছেন। তার খেলোয়াড় তালিকা প্রবাসী প্রতিভার উপর হাইতির নির্ভরতাকে তুলে ধরেছে।
লে গ্রেনাডিয়ার্সের তিন গোলরক্ষক, আট ডিফেন্ডার, সাত মিডফিল্ডার এবং আট ফরোয়ার্ডের গড় বয়স ২৪ বছর। হাইতির ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য এই সময়কাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে আগে কখনও একই দলে এত উচ্চ পর্যায়ে পেশাদার প্রবাসী কিংবা বিদেশী ক্লাবে খেলা খেলোয়াড়ের সমাবেশ ছিল না।
দেশটি ‘সি’ গ্রুপে শক্তিশালী মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়বে। জুনের ১৪ তারিখ বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় স্কটিশদের বিপক্ষে খেলবে লে গ্রেনাডিয়ার্স বাহিনী।
হাইতি বিশ্বকাপ দল
গোলরক্ষক: জনি প্লাসাইড, আলেক্সান্দ্রে পিয়েরে, জোসু ডুভারগার।
ডিফেন্ডার: কার্লেন্স আর্কাস, উইলগুয়েন্স পুগেইন, ডিউক ল্যাক্রোইক্স, মার্টিন এক্সপেরিয়েন্স, জেন-কেভিন ডুভার্ন, রিকার্ডো অ্যাডে, হ্যানেস ডেলক্রোইক্স, কিটো থার্মোন্সি।
মিডফিল্ডার: লেভারটন পিয়েরে, কার্ল-ফ্রেড সেইন্থে, জেন-জ্যাকস ড্যানলি, জেনরিকনার বেলেগার্ড, পিয়েরে উডেনস্কি, ডমিনিক সিমোন।
ফরোয়ার্ড: লুইসিয়াস ডিডসন, রুবেন প্রভিডেন্স, জোসুয়ে ক্যাসিমির, ডেরিক এতিয়েন, উইলসন ইসিডোর, ডাকেন্স নাজন, ফ্রান্টডি পিয়েরট, ইয়াসিন ফরচুন, লেনি জোসেফ।







