কোবায়াশি ইসা , জন্মেছিলেন ১৭৬৩ সালে, জাপানে।
জাপানের পরিচিত ও জনপ্রিয় হাইকু কবি। তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন ইসা নামে, যার অর্থ এক কাপ চা। তাকে জাপানের চার হাইকু মাস্টারের একজন ধরা হয়। অন্য তিনজন হলেন বাশো, বুসান ও শিকি।
ইসা জন্মেছিলেন কাশিওয়াবারায়, এখন যা নাগানো প্রিফেকচার এর অংশ । তার শৈশবের নাম ছিল কোবায়াশি ইয়াতারো। বাবা ছিলেন কৃষক। মাত্র তিন বছর বয়সেই মাকে হারান। এরপর সৎ মায়ের অবহেলা ও নিপীড়নে তার দিন কাটে। যখন বয়স ১৪, ইসাকে ইদো বা এখনকার টোকিওতে পাঠানো হয় হাইকু নিয়ে পাঠ নিতে।
প্রথম দিকে কবিতার জন্য কিছু খ্যাতি অর্জন করলেও বয়স পঞ্চাশ হওয়া অবধি তাকে আর্থিক সংগ্রাম, ভ্রমণ ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
ইসা ২০ হাজারেরও বেশি হাইকু লিখেছেন। যা আজও পাঠকদের মন জয় করে চলেছে। তার কবিতায় স্থানীয় ভাষা ও পশুপাখি, কীটপতঙ্গ বারবার এসেছে। যেমন, ব্যাঙ, শামুক, ফড়িং, জোনাকি, মশা।
ইসা তার আঁকার জন্যও বিখ্যাত ছিলেন। হাইকুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংক্ষিপ্ত কিন্তু চূড়ান্ততার জন্য তার স্কেচগুলো বিখ্যাত। ১৮২৮ সালে তিনি মারা যান।
*
বুদ্ধের শরীর
গ্রহণ করে নেয়
শীতের বৃষ্টি
*
বুদ্ধের নিয়ম,
উজ্জ্বলতা ছড়ায়
এক পাতার শিশিরে।
*
না দেখেই সূর্যের আলো
শীতের ক্যামেলিয়া
ফুটে ওঠে
*
কাঠঠোকরাটাও কী
থেমে যায় আর শোনে
বিকেলের মঠের বাদ্য?
*
এমন কী বাজে ভাবে বোনা
ধানের চারা
ধীরে ধীরে…হয় সবুজ!
*
শুধু আমার মতো
আমি এখানে
এই তুষারপাতে।
*
প্রতিফলিত
গঙ্গা-ফড়িংয়ের চোখে
পর্বতগুলি।
*
কখনো ভুলো না
আমরা নরকে হেঁটে যাই
ফুলের দিকে চোখ রেখে।
*
গঙ্গা-ফরিংয়ের লেজও
দিনে দিনে
বুড়ো হয়।
*
কেঁদো না, পোকারা…
প্রেমিকেরা, তারারাও,
আলাদা হবেই।
*
যেখানে মানুষ আছে
তুমি খুঁজে পাবে মাছি,
আর বুদ্ধদের।
*
প্রথম জোনাকি
কেন মুখ ফেরাচ্ছ
আমি ইসা।








