বাংলাদেশ দূতাবাস মিসরের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর্যের সঙ্গে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থা ও কনস্যুলার) মো. ফরহাদুল ইসলাম। এছাড়া মিসরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রবাসী ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষ এবং মিসরীয় ও বাংলাদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এরপর আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ। আলোচনা পর্ব শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ তার বক্তব্যে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহীদ এবং নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করেন। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৭ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতাকারী বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পাশাপাশি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন, যা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সাফল্যের কথা বলেন এবং সম্প্রতি সুদানে হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-মিসর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনে মিসরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা করেন। ইতোমধ্যে যারা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে যারা এখনো নিবন্ধন করেননি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।








