এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যু ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে দাবার উন্নয়নে তার অবদান এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
২০০২ সালে গ্র্যান্ডমাস্টার পদবী অর্জন করেন জিয়াউর। বাংলাদেশি দাবাড়ুদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফিদে রেটিং তার (২৫৭০)। ২০০৫ সালে অর্জন করেছিলেন। ২৪৭০ ফিদে রেটিং নিয়ে জীবনের শেষ ম্যাচটি খেলেছেন।
জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতায় ১৪বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জিয়াউর। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ টানা তিন বছর, ১৯৯৪, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০১, ২০০২, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১৪ আসরে শিরোপা তুলে ধরেছিলেন। দাবা বিশ্বকাপে জিয়াউর দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন চারবার, ২০০৭, ২০১১, ২০১৩ এবং ২০১৫ আসরে। একবারও প্রথম রাউন্ড পেরোতে পারেননি। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৩টি আসরে দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন জিয়াউর।
শুক্রবার জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ১২তম রাউন্ডের খেলা চলছিল। গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর মুখোমুখি হয়েছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের। ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রায় তিনঘণ্টা খেলেছিলেন জিয়াউর। বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে লুটিয়ে পড়েন।
প্রতিপক্ষসহ অনেকে এগিয়ে আসেন। দ্রুতই শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। দাবা ফেডারেশন থেকে ৯ মিনিটের মধ্যে তাকে হাসপাতালে পৌঁছালেও আর ফেরানো যায়নি।
জাতীয় দাবায় এবারও সন্তান তাহসীন তাজওয়ারকে নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন জিয়া। উৎসাহ যোগাতে বরাবরের মতো এদিনও ফেডারেশনে এসেছিলেন স্ত্রী লাবন্য। প্রিয় দুই মানুষের সামনেই চলে যান। দেশ হারায় প্রথম কোন গ্র্যান্ডমাস্টারকে।








