বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার গত দেড় দশকে বড় হলেও এর ভেতরে কাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নতি করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
শুক্রবার ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী অতীত ও বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক সূচক তুলে ধরে বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছর, ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এই তিনটি পর্যায়ের তুলনায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, সামাজিক খাত এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে সামগ্রিক উন্নতির পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় অর্থনৈতিক দুর্ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক অর্থ পাচারের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। বর্তমান সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকিং খাতে মূলধন পুনঃস্থাপন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি। মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে গেলেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি বেড়েছে। বিশেষ করে মেগা প্রকল্পে বড় অঙ্কের ব্যয় হলেও জনগণ তার প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে যথাযথ যাচাই-বাছাই না থাকায় এর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৫ বছরে টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যার ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। এক দশকে কৃষিখাতে মূল্য সংযোজন কমলেও কর্মসংস্থান বেড়েছে, যা কাঠামোগত অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিনিয়োগ সঞ্চয়ের তুলনায় বেশি হয়ে গেছে।
বিবৃতির শেষদিকে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।








