মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ বিজয়কে জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন নয়, এটি জনগণের দল।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর উত্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এটি ‘রাজনৈতিক বিজ্ঞান’-এর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার দাবি, বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে উগ্রবাদের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যখন গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হয় এবং মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখনই এ ধরনের শক্তির উত্থান ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর দমন-পীড়ন এবং বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে না দেওয়ার কারণেই জামায়াতের বর্তমান অবস্থান তৈরি হয়েছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নির্বাচনী জয় প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও ৩১ দফা কর্মসূচির প্রতি জনগণের পূর্ণ সমর্থনের কারণেই এই ভূমিধস বিজয় সম্ভব হয়েছে। জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের নিয়েই সরকার গঠন করা হবে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি যে অংশগুলোতে স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ৩১ দফা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে।
রংপুর বিভাগে জামায়াতের ভালো ফলাফল প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে বৃহত্তর দিনাজপুরের ১১টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি জয়ী হয়েছে এবং সেখানে জামায়াত কোনো আসন পায়নি। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে উগ্রবাদী প্রবণতা মোকাবিলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সকালে নিজ বাসভবনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল।








