বুয়েটে ছাত্রলীগের হামলায় নিহত শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের ব্যানারে ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মসূচিতে বিনা উস্কানীতে ছাত্রলীগের হামলা ও পুলিশের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
আজ এক যৌথ বিবৃতিতে গণতন্ত্র মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা তীব্র নিন্দা জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মদদে ক্যাম্পাসে আবরারের হত্যাকারীদের উত্তরসূরীদের এই তাণ্ডব দেশের বিরাজমান ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ছাত্রলীগের নির্যাতনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার ৩ বছর স্মরণে আয়োজিত সভা পণ্ড করতে একদিকে ছাত্রলীগ হামলায় যখন ২০ জনেরও অধিক নেতা-কর্মী আহত হলেন, সেই আহত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও আবার ছাত্রলীগ হামলা করে এবং পুলিশ হামলাকারীদের বদলে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যাল শাখার নেতা আখতার হোসনসহ ২৪ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনা স্পষ্ট করে প্রমাণ করে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে এবং সর্বত্র দলীয় গুণ্ডা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক এই স্মরণসভা কর্মসূচিতে এ ধরনের হামলা আবারো প্রমাণ করে সরকার মুখে সভা-সমাবেশে বাধা না দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে সারাদেশে রাজনৈতিক ভিন্নমত চর্চার নূন্যতম পরিবেশও রাখতে চায় না। জনসম্মতিহীন ফ্যাসিবাদী-কর্র্তত্ববাদী ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব কায়েম করে শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বত্র দখল বজায় রাখতে চায় সরকার।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার যতই উন্মত্ততা দেখাক, এইভাবে ত্রাস কায়েম করে আর ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যাবে না। জনগণ এই সরকারের প্রতারণা ধরে ফেলেছেন এবং কোনো মিথ্যা দিয়ে সরকার আর জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। জনগণের জাগরণ ও উত্থাণ, গণঅভ্যূত্থান অবশ্যম্ভাবী। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং হামলাকারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসাথে নেতৃবৃন্দ ভয়মুক্ত নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী দৌরাত্মের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান।







