কুমিল্লায় গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঁধে ধস নামার আগ পর্যন্ত বিপৎসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ভাঙ্গনের ফলে অন্তত ২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজ ২৩ আগস্ট শুক্রবার ভোররাত ১২টার দিকে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে পানি জনপদে প্রবেশ করতে শুরু করে বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান ও স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী মো. বিল্লাল হোসেন।
তারা জানান, প্রথমে একটি ছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে, ক্রমেই তা বড় আকার ধারণ করে এবং গভীর রাতে অন্তত ৫০ ফুট বাঁধ ধসে যায়। নদীর পাড়ে ভাঙ্গনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ প্রাণপন ছুটতে থাকেন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। কেউ দোতলা কোন বিল্ডিংয়ে কেউ স্কুল ভবনে আশ্রয় নেয়।
গোমতী বাঁধ এলাকার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন ঘর বানানোর মতো আর ক্ষমতা নেই। কোন রকমে আমার মা আর ছেলের বউকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসেছি।
একই এলাকার আব্দুল কালাম জানান, গত ২০ বছরে এত পানি দেখা যায়নি গোমতীতে। এবার যে এত পানি হবে কেউই বুঝতে পারেনি। যে কারণে বেশিরভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতেই বেড়িবাঁধের ভেতর সবগুলো গ্রাম ডুবে যায়। অতিরিক্ত স্রোতের ধাক্কায় আদর্শ সদর, বুড়িচং, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। সেঁচের পাইপ যাবার পথগুলো চুঁইয়ে নদী থেকে প্লাবিত হচ্ছে নদী অববাহিকার এলাকাগুলো।
বৃহষ্পতিবার দুপুর থেকে বাঁধের বিভিন্ন এলাকায় গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হতে থাকে জনবসতি। বাঁধ মেরামত কাজে সমন্বিত ভাবে কাজ করে এলাকাবাসী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।








