তেল ও ডলারের দাম বাড়ায় কমল স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৬ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে। এটি সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট এর চেয়ে কম দামে স্বর্ণ লেনদেন হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৮ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলন স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।
স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ বা ফলন পাওয়া সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।
মেরিল্যান্ডভিত্তিক পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেরিফ ওসমান আল জাজিরাকে বলেন, এর সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর খুব বেশি নাও পড়তে পারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে যারা স্বর্ণে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
তিনি বলেন, স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের ফলন বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে সরে যান। এতে ধাতুটির দাম কমে যায়।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছে। আগামী কয়েক মাসে আরও অন্তত এক দফা সুদের হার বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে মার্কিন ডলার দুই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি স্থির ছিল। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো বেশি রয়েছে বলে কয়েকজন নীতিনির্ধারক সতর্ক করেছেন। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাকও সম্প্রতি একই ধরনের মত দিয়েছেন।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ ফলন এবং শক্তিশালী ডলার ধাতুর দাম দ্রুত কমিয়ে দেওয়ার জন্য ‘একটি নিখুঁত ঝড়ের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এদিকে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭২৬ দশমিক ৩০ ডলারে। প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১১ দশমিক ৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।





