মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আবেগের গল্পে নির্মিত ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘ঘ্রাণ’ নাটকটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে! দুই সপ্তাহে ইউটিউব থেকে ৭১ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন। অপূর্ব ও নাজনীন নিহাকে নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করেছেন মাশরিকুল আলম।
এর গল্পটি লিখেছেন ইমদাদ বাবু। শুরুটা মিরপুর বেনারসি পল্লিতে। একটি শাড়ি কিনতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান অপূর্ব। শাড়ি কেমন হবে, বুঝে উঠতে পারে না। তখন রোজী সিদ্দিকীর সহায়তায় গল্প ঢুকে পড়ে এক হৃদয়ভরা ফ্ল্যাশব্যাকে।
প্রেমিকা নিহার খালার জন্মদিনে গিয়ে অপূর্বর মনে পড়ে তার নিজের মায়ের জন্মদিন কখন বা কবে, তা সে জানেই না। মনে হয়, মায়ের জন্মদিনটা আয়োজন করে উদযাপন করা উচিত। কিন্তু এটাই তো সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন—কবে তার মায়ের জন্মদিন? সে আমলের অনেক মানুষই তো জন্ম তারিখ লিখে রাখতেন না। সেই ‘না-জানা’র মধ্য থেকেই শুরু হয় এক সন্তানের খোঁজ—মায়ের জন্মদিনের খোঁজ।
নাটকটির নির্মাতা মাসরিকুল আলম বলেন, “ইমদাদ ভাইয়ের ছোট একটা গল্প ছিল ‘ঘ্রাণ’। আমি পড়েই মুগ্ধ। কারণ, আমিও আমার মায়ের জন্মদিন জানি না। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নাটকে রূপ দেব। ইমদাদ ভাইকে বলেই দিই—এ গল্পটা করতে চাই।”
নাটকের প্রধান অভিনেতা জিয়াউল হক অপূর্ব বলেন, ‘স্ক্রিপ্ট পড়েই মনে হয়েছে, এ নাটকটা দেখে যাদের মা নেই তারা তো কাঁদবেই, যাদের মা আছেন তারাও কাঁদবে।’ নাজনীন নাহার নিহা বলেন, “গল্পটা এতটাই স্নিগ্ধ আর আবেগভরা ছিল যে, একবারেই ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছি। এমন কাজ আজকাল খুব একটা হয় না।
নাটকে অপূর্বর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেত্রী শেলী আহসান। তিনি বলেন, “এ চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমি বারবার কেঁদে ফেলেছি। এমন একটা ছেলে যদি প্রতিটি মায়ের জীবনে থাকত, তাহলে পৃথিবীটা আরও সুন্দর হতো। ‘ঘ্রাণ’ শুধু একটি নাটক নয়, এটি যেন একজন মায়ের মলিন হয়ে যাওয়া স্মৃতির দিকে সন্তানের ফিরে তাকানো। আমি গর্বিত যে এমন একটি মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছি।”
নাটকে আরও অভিনয় করেছেন রোজী সিদ্দিকী, দিলারা জামান ও বড়দা মিঠু। নির্মাতা জানান, এটি নিহার সঙ্গে তার প্রথম কাজ, যদিও রিলিজ হিসেবে দ্বিতীয়। নির্মাতা মাসরিকুল আরও বলেন, “প্রশংসা পেতে কার না ভালো লাগে! ‘ঘ্রাণ’ রিলিজের পর থেকে দর্শক, সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছি, তা ভবিষ্যতের কাজের জন্য এক বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে।”
দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও তাই বলছে। কেউ মন্তব্য করছেন ‘এই অবহেলিত যুগে এসে এমন নাটক আরও নির্মাণ করা উচিত, যাতে সমাজে পরিবর্তন আসে।’ আরও একজন লিখেছেন, ‘মা জীবিত তবুও তার অস্তিত্বহীনতার কল্পনা চোখ বেয়ে অশ্রু নামিয়ে আনছে।’
আরেক দর্শক বলেন, ‘পরিচালককে ধন্যবাদ, আকাশে যেমন চাঁদের মর্যাদা, এ নাটকেও তেমনভাবেই মায়ের মর্যাদা তুলে ধরেছেন। সব মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’
বিশেষ করে প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়াগুলো আরও আবেগময়। একজনের প্রতিক্রিয়া এমন—‘এই প্রথম মাকে নিয়ে এত সুন্দর নাটক দেখলাম। নাটকে মাকে নিয়ে বলা প্রতিটি সংলাপ হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আমার মাকে নিয়ে যে অনুভূতিটা হলো, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’








