দুই ম্যাচ ঝালিয়ে নিয়ে জার্মানিকে কেমন দেখছেন ক্লপ

উয়েফা নেশনস লিগে দুই ম্যাচ খেলে জয়ের দেখা নেই জার্মানির। বিশ্বকাপ থেকে দ্রুত বিদায়ের পর, দেশটির কোচের দায়িত্ব নেন ইয়ূর্গেন ক্লপ। যার হাত ধরে নতুন করে আশার আলো দেখছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচে ডাচদের বিপক্ষে ১-১এ ড্র, দ্বিতীয় ম্যাচে তুলনামূলক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা গ্রিসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হার জুটেছে। ক্লপ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, চলতি বিরতিতে দুটি আলাদা স্কোয়াড নিয়ে চারটি ম্যাচে জার্মানিকে ঝালিয়ে দেখবেন।
জার্মানির সবশেষ হার নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। বিশ্বকাপের পর পদত্যাগ করেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান, দায়িত্ব আসে ক্লপের হাতে। মনে করা হচ্ছিল লিভারপুলের মতো প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখবে জার্মানি। প্রথম দুই ম্যাচে ধাক্কা, ঘরে গ্রিসের বিপক্ষে ফিনিশিং অভাব এবং মিডফিল্ডে বেশ ছন্দহীন ছিল দলটি। ৭৪ মিনিটে গ্রিসের একমাত্র গোলটি করেন দিমিত্রিওস কুরবেলিস, জিতে মাঠ ছাড়ে দল। তবে কোনকিছুকেই তেমন সমস্যা মনে করছেন না ক্লপ, হারের দায় নিচ্ছেন নিজের কাঁধেই।
নেশনস লিগে নামার আগে চারটি ম্যাচের জন্য আলাদা দুটি স্কোয়াড ঘোষণা দিয়ে রীতিমত তোলপাড় লাগিয়ে দিয়েছিলেন জার্মান এ কোচ। তার লক্ষ্য ছিল এক দেশের দুই দলকে ঝালিয়ে দেখবেন। আসরে দুটি ম্যাচ খেলে কতটুক ঝালিয়ে দেখতে পারলেন সেবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্লপ।
গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ক্লপ বলেছেন, ‘যেসব পরিবর্তন এনেছিলাম, তার প্রেক্ষিতে পরাজয়ের দায় অবশ্যই আমার। গ্রিসের মতো দলের কাছে জার্মানির কোনভাবেই হারা উচিত ছিল না। বিশেষ করে যখন তারা রক্ষণে অত্যন্ত জমাটবদ্ধ হয়ে খেলছিল। এটা স্পষ্ট যে, এমন রক্ষণাত্মক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমরা হয়তো বড় ব্যবধানে জিততাম না, তবে এমন ম্যাচ আমাদের হারাও উচিত হয়নি।’
লম্বা পাসের বিপক্ষে জার্মানির রক্ষণের ভূমিকা নিয়ে ক্লপ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, ‘গ্রিকরা মূলত কেবল লং বলই খেলেছে। আমাদের সেই পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামলাতে হতো। লং বলের ফলে সৃষ্ট দ্বৈরথ বা লড়াইগুলোতে জার্মানি অনেক সময় যথেষ্ট দ্রুত সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
‘আমরা একটি নতুন দল। মাঝেমধ্যে আমরা একে অপরকে দারুণভাবে বুঝে ফেলি। কিন্তু পরিস্থিতি উল্টোটাও হতে পারে, যেমন আজ দেখলাম। আমাদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এটি একটি প্রক্রিয়ার অংশ। ফুটবলে অনুশীলনের প্রয়োজন, প্রয়োজন নির্দিষ্ট রুটিন বা অভ্যাসের। আমাদের ক্ষেত্রে এখনও সেসবের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।’
হার অপ্রত্যাশিত হলেও মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি কোন পর্যায় যাবে সেটা নিয়ে চিন্তিত থাকেন ক্লপ, ‘জীবনে যতটা চেয়েছি, তার চেয়ে অনেকবেশি ম্যাচেই হেরেছি। সামলে নিতে পারি। এমন ম্যাচের পর কেবল প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়ে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হয়। দলের মধ্যে নতুন কোন দর্শন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাজে সমাপ্তির চেয়ে বাজে শুরুকেই শ্রেয় মনে করি।’
জার্মানি নেশনস লিগে তৃতীয় ম্যাচটি খেলবে বৃহস্পতিবার রাতে। বাংলাদেশ সময় পৌনে ১২টায় সার্বিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে নামবে।






