গ্রাম বিকাশ সহায়ক সংস্থা (এইঝঝ) আয়োজিত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ধানমন্ডির উইমেন্স ভলান্টারি এসোসিয়েশন (ডব্লিউভিএ) মিলনায়তনে আয়োজিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে পিপিডিআরআই প্রকল্পের আওতায় শিখণ বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। শিখণ কর্মশালায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠন, উন্নয়নকর্মী, বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাজেদা বানু, চেয়ারম্যান, জিবিএসএস। মাসুদা ফারুক রত্না, নির্বাহী পরিচালক, জিবিএসএস অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকল্পের লক্ষ্য ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সেই সাথে জিবিএসএসের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকতর উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রকল্প বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে বলে মতামত ব্যক্ত করেন এবং এক্ষেত্রে জিবিএসএস নিজস্ব কার্যক্রম সকলের সহযোগিতায় অভ্যাহত রাখতে বন্ধ পরিকর।
প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জিবিএসএস এর হেড অব প্রোগ্রাম মেহেদী হাসান কিংশুক। জনাব মেহেদী কিংশুক এর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের পর আমন্ত্রিত অতিথিদের মতামত এবং কিভাবে এ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বা কার্যক্রম সামনে এগিয়ে যাবে সে বিষয়ে বক্তারা আলোকপাত করেন। এবং একটি ডকুমেন্টরী প্রদর্শনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সাফল্য, শিখন, বাধি ও পরবর্থী করনীয় সকলের সাথে শেয়ার করেন। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নকে সময়োপযোগী ও টেকসই সামাজিক পরিবর্তনে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার ৩০ জন প্রতিনিনিধি। বক্তরা তাদের অভিমত জ্ঞাপন করতে গিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় এই প্রকল্প খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জোরদার করবে। প্রতিবন্ধী নারীরা দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার হন। এই প্রকল্প তাদের কণ্ঠকে নীতি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এই প্রকল্প সে লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখবে। প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের জীবনমান পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সকলে মিলে বৈষম্য দূর করতে চাই।
উন্নয়ন কর্মী নিগার সুলতানা বলেন, গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত। এই প্রকল্পের কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেবে।
উন্নয়ন কর্মী ফেরদৌস উজ্জ্বল বলেন, প্রতিবন্ধীদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের কার্যক্রম সে দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য যে, বক্তাদের এ ধরণের আলোচনা শুনে উপস্থিত ১০ জন প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ আনন্দিত হয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সমাজরেই অংশ, তাই তাদের মানসিক, শারিরীক ও আর্থিক বিকাশে সকলের এগিয়ে আসা সেটাই প্রমাণ করে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও মানুষ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জনাব মাসুদ রানা মিঠু বলেন,কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির অংশ হিসেবে জিবিএসএস বাস্তবায়িত সিপিডিআরআই প্রকল্প একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি বলতে পারি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে আমাকে যখন প্রয়োজন আমি সাড়া দেবো।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সুইড বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ ও কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধীদের অধিকতর সুযোগ সৃষ্টি করতে আমরা একযোগে কাজ করব। সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আমাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জান্নাতুল হক শাপলা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজে পিছিয়ে তার উপর যদি আবার নারী প্রতিবন্ধী হয় তাহলে সে হয় আরও বেশি অবহেলিত ও বঞ্চনার শিকার হন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারী প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেয়ায় জিবিএসএসকে ধন্যবাদ দেন। জনাব মাসুদ রানা মিঠু বলেন, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মো: মনির হোসেন বলেন,জিবিএসএস এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে শিখন উপস্থাপন করলো তা আমাদের জন্য উৎসাহজনক। এই ৫ মাসে যে কোন প্রকল্পের সফল সমাপ্তি এবং সে সফলতা যখন চোখে দেখা যায় তখন তা সকলের জন্য অনুকরণীয় বিষয় হয়ে ওঠে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে সাযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য। আমরা এ ধরনের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাই পাশাপাশি এক্ষেত্রে সকল ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিচর্যাই নয় বরং তাদের ও তাদের পবিারের সদস্যদের কিভাবে স্বাবলম্বি করে গড়ে তোলায় সে বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রাজধানী সকল এলাকেই সবসময় থাকবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন এবং এ ধরণের কার্যক্রম গঠনের জন্য জিবিএসএস ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে জিবিএসএস সভাপতি সাজেদা বানু সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকলের প্রতি আহবান জানান, আমরা সকলে মিলে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে এবং তাদের সুস্থভাবে বাঁচতে কাজ করবো বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।







