মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেছে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর ক্রীড়া পরিষদের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ক্রিকেট লিগ ইন্ডিয়ান হেভেন প্রিমিয়ার লিগ (আইএচপিএল)। সঙ্গে বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে লিগটি। লিগে খেলছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিস গেইল। আয়োজকরা ম্যাচ বাতিল করে খেলোয়াড়-আম্পায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি হোটেল বিলও পরিশোধ না করেই পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
টিম হোটেলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কয়েকজন খেলোয়াড় ছিলেন। গেইলের পাশাপাশি ছিলেন থিসারা পেরেরা, শন মার্শের মতো তারকারা। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের কোচ মেল জুনিপার টুর্নামেন্টে আম্পায়ার ছিলেন। ভারতের সাবেক খেলোয়াড় প্রবীণ কুমারও ছিলেন।
আয়োজকদের বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় শ্রীনগর রেডিসন হোটেল কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়-আম্পায়ারদের হোটেল ছাড়তে দেয়নি। লিগে সাকিব আল হাসানের খেলার কথা ছিল, টাইগার তারকা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আইএচপিএল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাকিবের খেলার বিষয়ে পোস্ট করেছিল।
মেল জুনিপার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘লিগ কর্তৃপক্ষ কোন বিল দেয়নি। তারা খেলোয়াড়, আম্পায়ার, স্টাফ বা হোটেলের কাউকেই অর্থ দেয়নি। তারা হোটেলকে বলেছে খেলোয়াড়দের ভবনের মধ্যে রাখার জন্য। এখন তারা কোথাও নেই, ফোনও ধরছে না। আমাদের পাওনা না মেটানো পর্যন্ত আমরা খেলব না।’
রেডিসন হোটেলের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ‘আইএচপিএল কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ বকেয়া রয়েছে। এতে সবারই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। আয়োজকরা কোন পূর্বঘোষণা ছাড়াই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই হোটেল ছেড়েছেন।’
লিগটি আয়োজন করেছিল মোহালি ভিত্তিক যুবা সোসাইটি এবং প্রচার করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর স্পোর্টস কাউন্সিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিব নুজহাত গুল, জম্মু ও কাশ্মীরের বেশকিছু সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। তবে বিতর্ক সামনে আসার পর নুজহাত গুল লিগ থেকে দূরে সরে গেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘এই লিগের সঙ্গে সরকার বা স্পোর্টস কাউন্সিলের কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তারা শুধু বখশি স্টেডিয়াম ভাড়া নিয়েছিল এবং সেটির জন্য অর্থ দিয়েছিল।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেক জায়গা থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাতে আমার কোন সরকারি সম্পর্ক বা বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।’
লিগ শুরু হয়েছিল ২৫ অক্টোবর শ্রীনগরের বখশি স্টেডিয়ামে এবং ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল ৮ নভেম্বর। ৮ দল, ২৭ ম্যাচ এবং প্রায় ৭০ জন খেলোয়াড়-আম্পায়ার ও স্টাফ অংশ নিয়েছিলেন।







