বেশকিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, গ্যাসের দাম বাড়াবে সরকার। বিষয়টিতে ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের বিরোধিতা থাকলেও দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুতসহ সব খাতে গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগেই নতুন দাম ঘোষণা করা হবে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ।
করোনার চলমান সমস্যার মাঝে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাবে এমনিতেই বাজারের সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। এরমধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানো যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বিশ্বে অর্থনীতির এখন যে সংকট, তা বাংলাদেশের একার নয়। প্রায় এক দশক ধরে দেশে মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে একধরনের স্বস্তি ছিল। কিন্তু এখন সেটি নেই। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি হিসাবে যতটুকু মূল্যস্ফীতি বলা হচ্ছে, মানুষকে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মূল্যস্ফীতির ভার নিতে হচ্ছে। প্রায় সব দেশই এ সংকট নিজেদের মতো করে সমাধানের পথ খুঁজছে। নিত্য পণ্যের পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়াতে তার সার্বিক প্রভাব মারাত্মকভাবে পড়তে শুরু করেছে জনগণের উপরে।
মূল্যস্ফীতি ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার দুর্ভোগ কিংবা শিল্পের উৎপাদন কমে যাওয়া কোন কিছুই বিবেচনায় না নিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কর কাঠামোতে পরিবর্তন, সিস্টেম লস আর দুর্নীতি কমালে ভর্তুকি সমন্বয় সম্ভব। কিন্তু সেপথে না হেঁটে সরাসরি গ্যাসের দাম বাড়ানোতে শঙ্কিত সাধারণ মানুষও।
প্রবাসী আয় আর আমদানি-রপ্তানির উপর নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতি। জ্বালানির দাম বাড়ানোতে প্রবাসী আয়তে হয়তো কোনো প্রভাব পড়বে না, কিন্তু উৎপাদনমুখী শিল্পে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে। যা নিয়ে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে যথেষ্ট সোচ্চার। আমাদের আশাবাদ, সরকার এ বিষয়গুলো সার্বিকভাবে বিবেচনা করবে এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট হবে।








