ব্রাজিল ফুটবল দলকে নিয়ে চলছে নানান ধরনের কানাঘুষা। কাল ভোর চারটায় গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল লড়বে স্কটল্যান্ডের সাথে। স্কটল্যান্ড আহামরি কোন দল নয়। কিন্ত প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, তাই হালকা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সাথে ভয়, শঙ্কাও উড়ছে। ব্রাজিল আগের অবস্থানে নেই। তাই শঙ্কার শত কারণও রয়েছে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্র আর দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির সাথে সহজে জয়লাভ করলেও ব্রাজিল সমর্থকসহ কারোরই মন ভরাতে পারেনি। ব্রাজিলের খেলায় নান্দনিকতা ও ধারের প্রচুর ঘাটতি দেখা গেছে গত দুই ম্যাচে। ফলে ব্রাজিলকে নিয়ে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের নানান দোলাচল ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশের মধ্যরাত পেরিয়ে কাল নেইমার খেলবেন। ব্রাজিল ভক্তরা নেইমারের জন্য অপেক্ষা করছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলিয়ান ‘আইকন’ নেইমার স্কটল্যান্ডের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
এদিকে স্কটল্যান্ড পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য স্বপ্ন এঁকে বসে আছে। এই গ্রুপে ফুটবলের ছয় শীর্ষ দেশের দুই দেশ রয়েছে। তবু আশাবাদী স্কটিশরা। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপে অপরাজিত থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল স্কটল্যান্ডকে। গোল পাথর্ক্যে সেই বিদায় ছিল আক্ষেপময়। এখনও সেই আক্ষেপ কাটেনি। এবার আক্ষেপ ঘোচানোর জন্য তারা প্রস্তত হয়ে আছেন। আবার ভয়ও আছে। বড় ব্যবধানে হারলে তাদের কপাল খারাপ আছে। অবশ্য স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা বারবার ইতিহাস গড়ার কথা বলেছেন। ব্রাজিল মধ্যেকার ম্যাচ নিয়ে অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন জোর দিয়ে বলেছেন যে, তৃতীয় স্থান নিয়ে সম্ভাব্য নানা সমীকরণ নিয়ে তিনি মোটেও মাথা ঘামাচ্ছেন না।
ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন দেশের ফুটবল ইতিহাসের তারকা ফুটবলার ও সংগঠক আব্দুল গাফফার। আশির দশকে ঢাকার মাঠে রঙ ছড়ানো ফুটবলার। সেসময় মোহামেডান ও আবাহনীর হয়ে ডিনি অনেক অনেকদিন ফুটবল প্রেমিকদের মাতিয়ে রাখেন। আব্দুল গাফফার জার্মানির সমর্থক হলেও টপ লেভেলের সব দলেরই চুলচেরা খবর রাখেন। নিজ দল জার্মানির খেলায় তিনি সন্তুষ্ট হলেও এথনও মনে করেন না জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হবে। কেননা তিনি মনে করেন প্রথম রাউন্ডের খেলা দিয়ে কোনকিছুই বিচার বা অনুমান করা ঠিক হবে না। ফুটবলের মূল লড়াইটা শুরু হবে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। তখন মাঠের পারফরম্যান্স আর ভাগ্য একসাথে সমান্তরাল চলতে হবে। আব্দুল গাফফার মনে করেন এবারের বিশ্বকাপে এককথায় পারফেক্ট দল ফ্রান্স। এই দলটির প্রত্যেকটি স্তর শক্তিশালী। এছাড়া এই দলের কাইলিয়ান এমবাপে তুমুল মেজাজে রয়েছেন। যিনি প্রতিপক্ষের সবকিছু ভেঙেচুরে একাকার করে ফেলতে পারেন। ফলে ফ্রন্সকে আটকিয়ে রাখা খুবই কঠিন ব্যাপার।
এবার ব্রাজিলের খেলা একদমই দেশের এই সাবেক তারকার মন জয় করতে পারেনি। আক্ষেপ করেই বললেন, ‘ব্রাজিলের সেই দুর্দান্ত ফুটবল চোখে পড়ছে না। কেন জানি ম্যাড়মেড়ে, সব ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে। মিস পাসও অনেক চোখ পড়ল। তবে নেইমার আাগামীকাল নতুন ঢেউ তুলতে পারলে সেটা ব্রাজিলের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার রসদ জোগাবে। স্কটিশদের সাথে ব্রাজিলের খেলায় নতুন উত্তাপ দেখা যেতে পারে।’
সাবেক তারকা ফুটবলার গাফফার জার্মানি দলের সমর্থক হলেও প্রিয় খেলোয়াড় আবার লিওনেল মেসি। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা টিম বাংলাদেশে খেলতে এলে সেসময় ম্যানেজার হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনা দলের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। ফলে লিওনেল মেসির সাথে তার বড় একটা একান্ত সময় কেটেছিল। টুকটাক স্প্যানিশ ভাষা জানার কারণে মেসির সাথে তার অনেক কথাবার্তাও হয়েছিল। মেসির সাথের সেই স্মৃতি তিনি মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি। বিশেষ করে মেসির বিণয়ী আচারণ তার হৃদয় মাঝে গেঁথে আছে। আব্দুল গাফফারের মতে, মেসি ফুটবল ইতিহাসে আলাদা এবং অন্যরকম। মেসির মতো ফুটবলার আবার কবে আসবে তা কেউ বলতে পারবে না। এই বয়সেও এসে মেসির পারফরম্যান্স এক কথায় মনোমুগ্ধকর। মেসি আর্জেন্টিনাকে কোথায় নিয়ে যাবে তা সময় বলে দেবে।
সবশেষে আব্দুল গাফফার বললেন, ‘দ্বিতীয় পর্বেই স্পষ্ট হবে চ্যাম্পিয়নের পথে কোন কোনে দল অগ্রগামী থাকবে। সেসময় নিখুঁত হিসেব নিকেশে খেলা হবে। তবে ব্রাজিলকে নিয়ে আশাবাদী নই। আবারো বলছি অনেক হতাশ। তবে ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ালে বিশ্বকাপ ফুটবল আরও বর্ণিল হবে, সাম্বার তালে তালে জেগে উঠবে সবাই।’







