বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক আবদুল কাদের ২৩ বছর আগে স্ত্রীর দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে নাতনিকে ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভালোবাসা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত প্রয়াত স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করেন তিনি।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িপাল্লায় বসিয়ে নাতনি নাঈমা খাতুনকে (২৩) তার সমান ওজনের ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ধাতব মুদ্রা উপহার দেন আবদুল কাদের। অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ২৩ বছর আগে নাতনি নাঈমার জন্মের সময় তার নানি প্রয়াত পাতা বেগম ঘোষণা দিয়েছিলেন নাতনির বিয়ের সময় তাকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে সমপরিমাণ ধাতব মুদ্রা উপহার দেওয়া হবে। সেই সময় থেকেই এই দম্পতি মাটির ব্যাংকে মুদ্রা জমাতে শুরু করেন।
তবে প্রায় দুই বছর আগে পাতা বেগম মারা যান। এর পর নাঈমার বিয়ে হলেও পর্যাপ্ত মুদ্রা না থাকায় তখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পরে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা হলে আর দেরি না করে দীর্ঘদিনে জমিয়ে রাখা দেড় বস্তা মুদ্রা দিয়ে স্ত্রীর সেই ইচ্ছা বাস্তবায়ন করেন আবদুল কাদের।
এমন ব্যতিক্রমী উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত নাঈমা খাতুন বলেন, নানির স্বপ্ন ছিল বিয়েতে এমন উপহার পাওয়া। তখন তা সম্ভব না হলেও নানা আজ সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন যা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আবদুল কাদেরের ভাতিজা ও বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান জানান, নাঈমার জন্মের সময় করা ওই প্রতিশ্রুতি পরিবারের সবারই জানা ছিল। চাচি না থাকলেও তার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে চাচা আনুষ্ঠানিকভাবে এই উপহার দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বেশিরভাগই ৫ টাকার মুদ্রা দিয়ে ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজন পূরণ করা হয়েছে।
নানা-নানির এমন ভালোবাসার গল্প ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।








