ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মিশেল বার্নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) তার পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। গত রাতে জাতীয় সংসদে এক অনাস্থা প্রস্তাবে পরাজিত হলে পতন ঘটে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের। মাত্র তিন মাস আগেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন।
বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বর্তমানে তার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বার্নিয়ে আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বার্নিয়ের সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনাস্থা প্রস্তাবে পরাজিত হয়। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন ৩৩১ জন সংসদ সদস্য, যা পাশের জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৮ ভোটের চেয়ে অনেক বেশি। বার্নিয়ের বিতর্কিত বাজেট সংসদের অনুমোদন ছাড়াই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে পাশ করানো হয়েছিল, যা তার সরকারের পতনের মূল কারণ। এমতাবস্থায় বার্নিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য। সেই সঙ্গে যে বাজেটটি তার পতনের কারণ হয়েছিল, সেটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মেরিন লে পেনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) এবং বামপন্থী নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনপিএফ) একত্রে বার্নিয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটি আনে। উভয় দলই দাবি করেছিল, বার্নিয়ের বাজেট – যেখানে ৬০ বিলিয়ন ইউরো ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা ফরাসি জনগণের জন্য ক্ষতিকারক।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। যদিও সংবিধান অনুসারে বার্নিয়ের পদত্যাগ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলে না তবে বিরোধী দলগুলো ক্রমশই খোলাখুলিভাবে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ এবং আগাম নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। ম্যাক্রো অবশ্য এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে ন্যাশনাল র্যালির নেত্রী মেরিন লে পেন বলেছেন, বার্নিয়ের অপসারণ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর পদত্যাগের দাবি করছেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, আমরা সত্য ও দায়িত্ববোধের একটি মুহূর্তে পৌঁছেছি। আমাদের ঋণের বাস্তবতাগুলোকে বুঝতে হবে।








