দেশের অন্যতম বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর তার পরিবারে শুরু হওয়া উত্তরাধিকারের লড়াইয়ের মধ্যে এবার বড় বোন ও গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে ভাইকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন ছোট বোন শাযরেহ হক। মামলায় সিমিন রহমান ছাড়া আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীর গুলশান থানায় শুক্রবার (২২ মার্চ) রাতে ১০ মাস আগে ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় বড় বোন সিমিন রহমানের ছেলে ও ট্রান্সকম গ্রুপের হেড অব ট্রান্সফরেশন যারাইফ আয়াত হোসেনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপক ডা. মুরাদ এবং পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম, ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) কামরুল হাসান, আইন কর্মকর্তা মো. ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) কেএইচ মো. শাহাদত হোসেন, কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ও সেলিনা সুলতানা এবং গ্রুপের কর্মচারী রফিক ও মিরাজুল।
মামলায় শাহরেহ হক অভিযোগ করেন, ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি অন্য ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে কৌশলে বিষ প্রয়োগ/শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে সিমিন রহমানসহ অন্যদের আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে।’
মামলা করতে দেরি হওয়ার বিষয়ে এজাহারে বলা হয়, ‘নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে শলা পরামর্শ করে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হইল।’
রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা এখনো তদন্ত করার দায়িত্ব পাইনি। আমরা আমাদের ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।
গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘২০২৩ সালের ১৬ জুন গুলশানের বাসায় নিজের শোয়ার ঘরে মৃত অবস্থায় আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে জানান। বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে হত্যার অভিযোগে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক শাযরেহ হক এ মামলা করার পর তারা তদন্ত শুরু করেছেন।’
এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার না হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।’
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি শাযরেহ হক গুলশান থানায় তিনটি মামলা করেন। তাতে কোম্পানির সম্পত্তি ও শেয়ার-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড় বোন সিমিন ও গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান মা শাহনাজ রহমানমহ আটজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন শাযরেহ।
ওই মামলায় বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও দলিল জালের মাধ্যমে শাযরেহ ও তার প্রয়াত ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পারিবারিক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করা হয়।
এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসামি ট্রান্সকম গ্রুপের পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) কামরুল হাসান, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল মামুন, ম্যানেজার আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক এবং সহ-কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মা শাহনাজ রহমানসহ তিনজনকে দেশে প্রবেশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হকের করা প্রতারণা মামলায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।








