থাইল্যান্ডের সাবেক রানি ও বর্তমান রাজা মহা ভাজিরালংকর্ণের মা রানি সিরিকিত ইন্তেকাল করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন রানি সিরিকিত। ২০১৯ সাল থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে তার রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা থেকে আর সেরে উঠতে পারেননি।
আজ (২৫ অক্টোবর) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রানি সিরিকিতের মরদেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের দুশিত থ্রোন হলে শায়িত থাকবে। রাজপরিবারের সদস্যরা এক বছর শোক পালন করবেন।
প্রয়াত রানির মৃত্যুতে থাইল্যান্ডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল রানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান সম্মেলনে অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন। রানি সিরিকিত ১৯৫০ সালের ২৮ এপ্রিল রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন—যিনি পরবর্তীতে থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম সময়ের রাজা ছিলেন। তাদের চার সন্তান—রাজা মহা ভাজিরালংকর্ণসহ তিন কন্যা।
রানি সিরিকিতের জন্ম ১৯৩২ সালের ১২ আগস্ট। তার পিতা ছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। সেখানেই সঙ্গীত শিক্ষার সময় রাজা ভূমিবলের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ষাটের দশকে রাজদম্পতি বিশ্বভ্রমণে বের হন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার, ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয় ও সংগীত তারকা এলভিস প্রেসলির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রানি সিরিকিত নিয়মিতভাবেই সেরা পোশাকধারী নারীর তালিকায় স্থান পান।
রানি সিরিকিতের জন্মদিন ১২ আগস্টকে থাইল্যান্ডে ১৯৭৬ সাল থেকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। ২০১২ সালে তিনি স্ট্রোক করলে জনসম্মুখে আসা প্রায় বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে তিনি মূলত হাসপাতালে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। রানি সিরিকিতের মৃত্যুতে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ণ এক রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।
১৯৮০ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের রাজা-রানিরা সবসময় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। জনগণ আমাদের পিতা-মাতা হিসেবে দেখেন। তাই আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের খুব একটা জায়গা থাকে না।








