সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সহকারী অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা শাম্মী।
এর আগে তার ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক জানান, লিভারজনিত সমস্যার কারণে গতকাল শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টেসহ দুইদফা জানাজা শেষে আগামীকাল সোমবার ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে দাফন করা হবে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আকসির এম চৌধুরী।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া তিনি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
১৯৩৭ সালের ১৬ জুলাই কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫৮ ও ১৯৫৯ সালে যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন থেকে এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন। একই বছরে তিনি লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এ ছাড়া ১৯৭৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ঢাকার সিটি ল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। ১৯৬৭ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ১৯৮৯ সালে আপিল বিভাগে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি পান। তিনি দুই দফায় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন—১৯৯৯-২০০০ এবং ২০০৮-২০০৯ মেয়াদে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৯ সালে তিনি শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী মাহফুজা খানমকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। গত বছরের ১২ আগস্ট ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম মারা যান।







