বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাইয়ের ম্যাচে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ভালো ফুটবল খেলার বার্তাই দিয়েছিলেন তপু বর্মণ। লাল-সবুজের দলের ডিফেন্ডার বলেছিলেন, ‘আমরাও চেষ্টা করব, আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের যেন হতাশ না করি। একটা ভালো ফল আপনাদের দিতে চাই।’
রক্ষণের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত অ্যাওয়ে ম্যাচে জামাল ভূঁইয়াদের ৫-০ গোলের বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়। শুরুতে গোছানো এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকলেও রক্ষণভাগের ফুটবলারদের একের পর এক দৃষ্টিকটু ভুলে সব হয়ে যায় এলোমেলো।
আত্মবিশ্লেষণ এবং উন্নতির মাধ্যমে হোম ম্যাচে লড়াইয়ের আশা নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। বুধবার বিকেলে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সেরেছে অনুশীলন। এর মাঝেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তপু। অ্যাওয়ে ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে বিধ্বস্ত হলেও ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের লক্ষ্যই থাকবে বলে তিনি জানান।
‘ঘুরে দাঁড়ানো অবশ্যই সম্ভব। তাদের সাথে ৫-০ গোলে জিততে হবে, সেটা বাধ্যতামূলক না। আমাদের মাঠে যদি ১-০ গোলে তাদের হারাই, এটা ভালো হবে। আমাদের অবশ্যই ওই লক্ষ্যটাই আছে। ওইখানে (কুয়েতে) যে ফলটা হয়েছে, আমাদের জন্য এটা হতাশাজনক। কারণ আমরা সকল খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ এমনটা কামনা করিনি। আমাদের দেশের মানুষও কামনা করে নাই। অবশ্যই আমরা এখানে ঘুরে দাঁড়াতে চাই।’
প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে শুরু থেকে শক্তিশালী ফিলিস্তিনের সঙ্গে টক্কর দিয়েছিল বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে গোলের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল। ৪২ মিনিট পর্যন্ত জাল অক্ষতও রাখতে পেরেছিল। এরপর আকস্মিক ধসের জন্য খেলোয়াড়দের মনোযোগের ঘাটতি দায়ী কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ভিন্ন কারণ জানান তপু।
‘আমি মনে করি মনোযোগে ঘাটতি ছিল না। নির্দিষ্টভাবে আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না। আমাদের দলের রক্ষণটা একটু নড়বড়ে ছিল। ৪২ মিনিটের পর আমরা প্রথম গোল হজম করি।। এটা আমাদের জন্য মাইনাস পয়েন্ট ছিল। আমরা সমানে সমান খেলছিলাম, সুযোগ সৃষ্টি করেছিলাম। হঠাৎ করে গোল হজমে পর থেকে মনে হয় মানসিকভাবে আমরা ভেঙে পড়েছিলাম।’
পুরো দল দুই সপ্তাহ একসাথে সৌদিতে ক্যাম্প গড়ে অনুশীলন ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা। কুয়েতে গিয়েও অনুশীলনটা ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হলেও মাঠের লড়াইয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া নিয়ে তপুর কাছে রাখা হয় প্রশ্ন। বাংলাদেশি ডিফেন্ডারের ভাষ্য, কন্ডিশন ক্যাম্পে আমাদের সামর্থ্যে কোনো ঘাটতি হয়নি। আমাদের একটু যদি মনোযোগটা ভালো থাকতো, আমরা উতরে যেতে পারতাম।
ম্যাচের এক পর্যায়ে দৃশ্যত বোঝাই যাচ্ছিল, চার ডিফেন্ডারের কেউ দলীয়ভাবে রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলছিল। সবাই যেন নিজস্বভাবে খেলে যাচ্ছিল। টিম কম্বিনেশনে সমস্যা কোথায় ছিল? তপু বর্মণ কথার জবাবটা অসহায় সুরেই দেন।
‘দলীয়ভাবে রক্ষণভাগটা আমরা সবাই মিলে যদি ম্যানেজ করতে পারতাম, তাহলে খুবই ভালো হতো। ফিলিস্তিনের মতো দলের সাথে আক্রমণে ওঠা ছয়জনের বিপরীতে চারজনের পারা আসলে কঠিন। । পুরো খেলায় দেখেছেন, তারা কীভাবে আমাদের উপর চড়ে বসেছিল। আমরা পুরোপুরি দলীয় রক্ষণটা যদি ভালোভাবে করতাম, তাহলেও আমরা হয়তো ম্যাচ হারতাম। কিন্তু এত গোল হজম করতাম না।’







