নিয়ন্ত্রণরেখাতে (এলওসি) টানা সংঘর্ষ এবং উত্তেজনার মধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের ‘পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য’ মজুতের নির্দেশ দিল স্থানীয় প্রশাসন। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগামে এক ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারান ২৫ জন পর্যটকসহ ২৬ জন। ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে পাকিস্তান ঘাঁটিতে থাকা জঙ্গিদের। এর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা চরমে ওঠে। টানা আট দিন ধরে চলছে গোলাগুলি।
এই পরিস্থিতিতে মুজফফরাবাদ থেকে ঘোষণা করা হয়, এলওসি’র কাছে অবস্থিত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ১৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা যেন প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধ মজুত করে রাখে। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, যুদ্ধে শুরু হলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তাই এখনই তৈরি থাকতে বলা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রাদেশিক পরিষদে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী আনোয়ার উল হক বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখা–সংলগ্ন ১৩টি নির্বাচনী এলাকার জন্য দুই মাসের খাদ্যসরবরাহ মজুত করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সরকার ওই ১৩টি নির্বাচনী এলাকার জন্য ‘খাদ্য, ওষুধ এবং অন্য মৌলিক চাহিদাগুলোর’ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১০০ কোটি রুপির (৩৫ লাখ মার্কিন ডলার) একটি জরুরি তহবিল গঠন করেছে।
অতীতে পাক সেনা সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের সময় প্রথমে হালকা অস্ত্র ব্যবহার করলেও পরে ধাপে ধাপে ‘ক্যালিবার কনভার্সন’ কৌশলে মাঝারি ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে ব্যবহার করা হয় মর্টার ও কামানের গোলাও। জবাবে ভারতীয় সেনাও একই রকম প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।







