চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খাদ্য উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, অপচয়ও বন্ধ করতে হবে

প্রায় সাড়ে চার মাস আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ সারাবিশ্বেই খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দাম কমাতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ১ ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে, সেই পরামর্শও তার।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক উন্নত দেশে খাদ্য সংকট চলছে। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডে মানুষকে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এমনকি ভোজ্যতেল ১ লিটারের বেশি কেউ কিনতে পারবে না- সেই নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে সেখানে। অথচ বাংলাদেশে ভর্তুকি দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। এ জন্য সরকার সবার জন্য খাদ্য ওষুধ, ভ্যাকসিন সববিছুর সরবরাহ অব্যহত রাখতে পেরেছে।

Reneta June

যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিতে বলেছেন, ঠিক সেদিনই বিবিসি বাংলাসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম চমকে যাওয়া এক খবর প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপ এর গত বছরের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স’ প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে ওই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে ১ কোটি ৬ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়। এই হিসাবে বাংলাদেশে বছরে মাথাপিছু ৬৫ কেজি খাদ্য নষ্ট হয়।

বিজ্ঞাপন

ইউনেপ এর ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স’ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি খাদ্য অপচয় হয় ভারতে। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ খাদ্য অপচয় হয় বাংলাদেশে। একটি গবেষণা প্রতিবেদনের উল্লেখ বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে আরও বলেছে, বাংলাদেশে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোতে খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এসব পরিবারে মাসে মাথাপিছু ২৬ কেজি খাদ্য অপচয় হয়।

আমরা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কবে শেষ হবে? যুদ্ধের পর বিশ্বে গম-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। শুধু এই যুদ্ধই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন এক ধারণা ‘খাদ্য জাতীয়তাবাদ’। এই চিন্তা থেকে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে নিজ দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল-গমের মতো অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। যার প্রভাব পড়েছে গরিব দেশগুলোতে, বিশেষ করে আফ্রিকা অঞ্চলে।

এই দুই প্রধান কারণে মূলত বিশ্বব্যাপী দাম বাড়ার সাথে সাথে খাদ্যাভাবও দেখা দিয়েছে। টাকা থাকলেই যে খাদ্য পাওয়া যাবে- এখন আর সেই নিশ্চিয়তা কোনো দেশ দিতে পারছে না। এ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ নিজেদেরকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া। এ জন্য দ্রুত এবং বেশি পরিমাণে ফসল ফলাতে হবে। এতে করে অন্তত খাদ্যের জন্য কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী সেটাই বলতে চেয়েছেন।

আমরা মনে করি, শুধু খাদ্যের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; তার অপচয়ও বন্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি আমাদেরকে মিতব্যয়ীও হতে হবে। যাতে খাদ্যের সঞ্চয় বাড়ানো যায়। এ নিয়ে এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে।