শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে শুরু করেছে। তবে বন্যার পানি কমলেও বন্যার্তদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বন্যার্তরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ির
ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠেছে।
সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সদরের গাজীখামার থেকে নালিতাবাড়ীর কলসপাড় এলাকায় নানাবাড়ি বেড়াতে এসে বন্যার পানিতে ডুবে মোছা. জিনিয়া বেগম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বন্যায় ৪ দিনে দুই নারী ও এক শিশুসহ ৯ জন মারা গেছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু নগদ অর্থ এবং উপার্জনের অভাবে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং এবং বন্যার পানি নামারগতি ধীর হওয়ার কারণে গবাদি পশুসহ অনেকইে উঁচু রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রহর গুনছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুর জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পুর্নাাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেছেন খামাবাড়ির উপ-পরিচারক ড. সুকল্প দাস।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে. স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩৪১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলতি বন্যায় ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। যার মধ্যে নালিতাবাড়ি উপজেলাতেই বন্যাকবলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৩টি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, জেলার ৫ উপজেলায় সর্বমোট ৭৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০২টি। ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি কিংবা উজানের ভারতীয় ঢল না নামলে নদ-নদীগুলোর পানি আরও কমবে এবং এক-দুই দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।








