কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫টি স্থানে ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ২২টি গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
গত ৪৮ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ফেনীতে ৫৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ০.৬৮ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মানুষের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বীজতলা, কৃষি আবাদ, মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থাপনা এবং পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক মহাসড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেকে হাঁটু পরিমাণ পানি দিয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন জনসাধারণ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ফেনী জেলায় ৭ জুলাই সকাল নয়টা থেকে ৯ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় ৫৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে পানি উপচিয়ে বন্যা বাঁধে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। গত ৮ জুলাই রাত আটটায় মুহুরী নদীর পরশুরাম গেজ স্টেশনে পানির লেভেল ১৩.৮৫ মিটার ছিল। বিপৎসীমা ১২.৫৫ মিটার, এই সময়ে প্রায় ৭ মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।
দীর্ঘ সময় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী নদীর ডান তীরে জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশ ভারত টাই বাঁধের সংযোগস্থল দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। মুহুরী নদীর উভয় তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে পরশুরাম উপজেলায়, জঙ্গলগোনা-২টি, উত্তর শালধর-১টি, নোয়াপুর-১টি, পশ্চিম অলকা-১টি, সিলোনিয়া নদীর ডিএম সাহেবনগর-১টি, পশ্চিম গদানগর-১টি, কহুয়া নদীর দক্ষিণ বেড়াবাড়ীয়া- ১টি, পূর্ব সাতকুচিয়া-১টি, উত্তর টেটেশ্বর-১টিসহ ১০টি স্থানে ভাঙন হয়েছে এবং ফুলগাজী উপজেলায় মুহুরী নদীর দেড়পাড়া-২টি, শ্রীপুর-১টি, উত্তর দৌলতপুর-১টি (কহুয়া নদী), কমুয়া-১টি (সিলোনিয়া নদী) সহ ৫টি সর্বমোট ১৫টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার দুপুর বারোটায় মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।








