‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ নামের অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ রশিদ শাহ সম্রাট ও তার ছেলে, ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সালমান রশিদকে দেশে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা স্বপরিবারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফাঁস হওয়া এক হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে জানা গেছে, কোম্পানি বন্ধ করে নিরাপত্তা অজুহাতে আত্মগোপনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সালমান রশিদ।
বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ বলেছেন, ‘ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে আমরাও অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি রোববার খতিয়ে দেখব।’
ফ্লাইট এক্সপার্টের চেয়ারম্যান এম এ রশিদ শাহ সম্রাট এবং সিইও সালমান রশিদ আটাবের ওটিএ–বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদেও রয়েছেন। আটাব সভাপতির ভাষ্য, একাধিকবার তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সালমান রশিদের এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা চ্যানেল আই অনলাইনের হাতে এসেছে। সেখানে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতার শিকার’ দাবি করে কর্মীদের কোম্পানি বন্ধের কথা জানান। সেই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত ছুটির তথ্য জানান ফ্লাইট এক্সপার্টের কর্মীদের।
সেই বার্তায় তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্বাসঘাতকতা ঘটেছে- সাঈদ, হোসেন ও সাকিব পরিকল্পিতভাবে সব দোষ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আমাকে আত্মরক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরপর আজ সকালে তারা প্রায় ৩ কোটি টাকা বা তার কম তুলে নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। কোম্পানি এখন বন্ধ।’

এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা রাজধানীর বনানীতে ফ্লাইট এক্সপার্টের অফিসের সামনে ভিড় করছেন। তবে সেখানে গিয়ে অফিস বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন গ্রাহক জানান, তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে টিকিট কনফার্ম করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের কথা জানানো হয়।
এ ঘটনায় এখনো পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আটাব জানিয়েছে, অভিযোগ যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








