দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কাছে এক অন্য রকম অনুভূতি এনে দিয়েছে। কারণ, অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি জীবনের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতা।
জাতীয় নির্বাচনে ভোটার হয়েও ভোট দিতে পারেননি এমন শিক্ষার্থীরা এবার ডাকসুতে এসে প্রথমবারের মতো ব্যালট পেপারে নিজের পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখেছেন। ভোট দেওয়ার পর তাদের হাসি, উচ্ছ্বাস আর স্বস্তির প্রকাশ যেন প্রমাণ করছে- কতটা উদগ্রীব ছিল তারা ভোটের অধিকার চর্চার জন্য।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমানের বলেন, “২৫ বছরের জীবনে এই প্রথম ভোট দিতে পারলাম। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এই তিনটি নির্বাচন ভালোভাবে দেখেছি। এরমধ্যে একটায় ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ভোট দিতে পারিনি। কখনো সন্ত্রাসী পরিস্থিতি, কখনো রাতের ভোট হয়ে যাওয়ায় সুযোগ পাইনি। ডাকসুই আমার জীবনের প্রথম ভোট।”
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী সোয়াইব হোসেন বলেন, “সকালে হলেই উৎসবের পরিবেশ। দলে দলে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে এসেছে। বিগত পাঁচ বছরে ক্যাম্পাসে এ রকম উৎসবমুখর পরিবেশ দেখিনি।”
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদ আলী বলেন, “২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন দেখেছিলাম। কিন্তু ভোটার ছিলাম না। এবার ভোট দিতে পারলাম। আশা করি জাতীয় নির্বাচনেও এমন পরিবেশ থাকবে।”
দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে একযোগে ভোট গ্রহণ চলছে।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী সাউদিয়া ইসলাম খান পাশা বলেন, “প্রথমবার ভোট দিয়েছি। মনে হচ্ছিল এমসিকিউ পরীক্ষার মতো। কিছুটা ভয় ছিল, তবে সময় নিয়ে ভালোভাবে দিতে পেরেছি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্রে ভোট দিয়ে শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান সাদিয়া বলেন, “ডাকসুতে এবং জীবনে প্রথম ভোট দিলাম। আমার মনে হয় প্রার্থীদের চেয়ে আমাদের ভোটারদের আগ্রহ বেশি।”
আরেক শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, “খুব ভালো লাগছে। ডাকসুতে প্রথম ভোট দিলাম। আশা করি, আগামীতে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন হবে। আর জাতীয় নির্বাচনেও যেন আমরা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারি।”
ডাকসু ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ৬ পৃষ্ঠার ওএমআর ব্যালট, যার ৫ পৃষ্ঠা কেন্দ্রীয় সংসদের এবং ১ পৃষ্ঠা হল সংসদের জন্য নির্ধারিত। প্রতিটি ভোটারকে দুটি আলাদা ব্যালট বক্সে ব্যালট পেপার জমা দিতে হচ্ছে।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী খান শাহ জাহান বলেন, “খুব সুন্দর পরিবেশে ভোট দিলাম। নির্বাচিতরা যেন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে।”
সিনেট ভবনে ভোট দেওয়া শিক্ষার্থী আবদুস সালাম বলেন, “খুবই উৎসবের আমেজে ভোট দিলাম। এখন চাই, ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের জন্য জাতীয় নির্বাচনে যেন এমন পরিবেশ পাই।”
শিক্ষার্থীদের এই অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন ডাকসুর ভোটে তাদের উচ্ছ্বাস ফুটিয়ে তুলেছে, তেমনি অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা জোরালো করেছে।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন ৬২ জন। ভিপি পদে ৪৫ জন, জিএস পদে ১৯ জন, এজিএস পদে ২৫ জনসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ ও সদস্য পদে আছেন আরও শতাধিক প্রার্থী। ১৮টি হল সংসদের ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী।







