কক্সবাজারে প্রথমবার ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল

ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।
বুধবার ৭ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও ঝাউবন এলাকায় এ কার্নিভালের আয়োজন করা হবে।
আয়োজকেরা জানান, কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বিদেশি পর্যটক বৃদ্ধির হার আশানুরূপ নয়। পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ, সমুদ্রসৈকত উপভোগের পর সন্ধ্যার সময় বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দিন ও রাতে নানা ধরনের আয়োজন রাখা হয়েছে কার্নিভালে।
কার্নিভালে থাকছে দেশি-বিদেশি খাবারের ফুড জোন, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম ও জুস কর্নার। থাকবে মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজ। সেখানে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য ও বিভিন্ন শিল্পসামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া সূর্যোদয়ের সময় যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের জন্য থাকবে ওয়েলনেস জোন। শিশুদের জন্য থাকছে কিডস জোন। ক্যাম্পিং জোনে থাকবে নাইট-স্টে ক্যাম্পিং, ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, ক্যাম্পফায়ার ও টেলিস্কোপে তারাভরা আকাশ দেখার সুযোগ।
কার্নিভালে আরও থাকছে ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং, গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, হ্যান্ডবল, ভলিবল ও কাবাডি। থাকছে ব্যাডমিন্টন, স্যান্ড স্কাল্পচার, লাইভ আর্ট ও ফটো গ্যালারিও।
বিশেষ দিনগুলোতে বিজয় দিবস, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন থাকবে। এছাড়া বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটারে ‘ওয়েভ অব মিউজিক’ নামে সংগীত আয়োজনের কথাও জানিয়েছে আয়োজকেরা।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম বলেন, শুধু একটি কার্নিভাল আয়োজন নয়, কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। খাবার, সংগীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার ও পারিবারিক বিনোদনের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা তৈরি করা হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটক বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এই কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিন মাসের এ আয়োজনে পর্যটকেরা সমুদ্র উপভোগের পাশাপাশি দিন ও রাতে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কক্সবাজারের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে বলেও আশা করেন তিনি।
কক্সবাজারকে প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময়, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করতেই এই কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান।



