অ্যারন ফিঞ্চের ব্যাট বড় লক্ষ্য আনার পর বাকি কাজটা সেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ছয় বোলার মিলে। অন্যদিকে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কম রানে গুটিয়ে যাওয়া এড়াতে আয়ারল্যান্ডের হয়ে একাই লড়েছেন লোককান টাকার। তার হার না মানা ৭১ রান অবশ্য শুধু হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ব্রিসবেনের ম্যাচটি জিততেই হতো অজিদের। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেট ১৭৯ রান তুলে সেই কাজটিই ঠিকঠাক করে রাখলেন স্টয়নিস-ফিঞ্চরা। জবাব দিতে নেমে ১১ বল থাকতে ১৩৭ রানে গুটিয়ে যায় অ্যান্ডি ব্যালবির্নের দল, হার ৪২ রানের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ফিঞ্চের দল টেবিলের দুইয়ে উঠে এসেছে। বড় জয় রানরেটও বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন ও চার নম্বরে আছে ইংল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড। ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কেন উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ড। এক ম্যাচ বেশি খেলে সমান পয়েন্ট ফিঞ্চের দলের।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ছোড়া বড় লক্ষ্যে শুরুটা ভালোই করেছিলেন আইরিশ ওপেনাররা। তবে দ্বিতীয় ওভার থেকেই শুরু হয় মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের দাপট। তোপের রঙ চড়িয়ে প্রতিপক্ষের টপ-মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল-স্টয়নিস। দুই ওভারে বিনা উইকেটে ১৮ রান তোলা আইরিশরা পরের ৭ রান তুলতে হারায় ৫ উইকেট।
আসা-যাওয়ার শুরুটা হয় অধিনায়ক ব্যালবির্নের হাত ধরে। দলীয় ১৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে ফেরেন আরেক ওপেনার পল স্টার্লিং। তিনে নামা টাকার বাদে কেউই পাননি বলার মতো রান। ব্যর্থ হয়েছেন হ্যারি টেক্টর, কার্টিস ক্যাম্ফের, জর্জ ডকরেল, মার্ক এডাইরে। মাঝে ক্যাম্ফের ও ডকরেলকে রানের খাতাই খুলতে দেননি স্টার্ক। গ্রেথ ডিলানের ১০ বলে ১৪ রান দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস।
একপাশ আগলে থাকা টাকার শেষ পর্যন্ত থাকলেও অপর পাশে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই। ১৮.১ ওভারে ১৩৭ রান পর্যন্ত স্কোর টেনে নিতে পারেন টাকার। দল গুটিয়ে যাওয়ার আগে ৪৮ বলে খেলেন ৭১ রানের ইনিংস, ছিল এক ছক্কা ও নয়টি চারের মার।
অজিদের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন কামিন্স, ম্যাক্সওয়েল, জাম্পা ও স্টার্ক। মার্কাস স্টয়নিস ফিরিয়েছেন গ্রেথ ডিলানেকে। চলতি আসরে প্রথম ফিফটি পাওয়া অধিনায়ক ফিঞ্চ হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।
আগে ব্রিসবেন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান অ্যান্ডি ব্যালবির্নে। ডেভিড ওয়ার্নার দ্রুত ফিরলেও বাকিদের নিয়ে বড় সংগ্রহ আনেন ফিঞ্চ। ইনিংসের শেষ তিন ওভারে কেবল ২১ রান আসে, তবুও সংগ্রহ পৌনে দুইশ পর্যন্ত যায়।
ব্যাটিংয়ে বাজে শুরু পায় অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নারকে তৃতীয় ওভারে ফেরান ব্যারি ম্যাক্কার্থি। পরে তার পেস তোপে ফেরেন মিচেল মার্শ ও ফিফটি ছাড়ানো ফিঞ্চ। ৪ ওভারে খরচ করেন ২৯ রান। আইরিশদের হয়ে ২১ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট তুলে নেন জশ লিটল।
দ্বিতীয় উইকেটে ৫২ রানের জুটি আনেন ফিঞ্চ-মার্শ। ২২ বলে ২৮ করে মার্শ ফিরলে একপাশ আগলে ঝড় তোলেন ফিঞ্চ। আইরিশ বোলাদের ছাড় দেননি মার্কাস স্টয়নিসও। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩৫ রানে থামেন স্টয়নিস।
ফেরার আগে ফিঞ্চ ৪৪ বলে হাঁকান ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা, করেন ৬৩ রান। অজি অধিনায়ক সবশেষ ফিফটি করেছিলেন অক্টোবরে, শেষ ৬ ম্যাচে ধুঁকছিল তার ব্যাট।
শেষদিকে টিম ডেভিডের ১০ বলে ১৫ ও ম্যাথু ওয়েডের ৭ রানে ৫ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া পায় বড় সংগ্রহ। আইরিশদের হয়ে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন ফিওন হ্যান্ড, তার এক ওভারে ১৫ রান নিয়েছে অজি ব্যাটাররা। ৪ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য মার্ক এডাইরের।








