কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা ইতালির বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘ফিনালিস্সিমা’ মহারণের বাকি আর কয়েকঘণ্টা। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শুরু হবে খেলা।
লিওনেল মেসির সামনে সুযোগ আন্তর্জাতিক কোনো শিরোপা জয়ের গৌরবে ভাসার। ফিনালিস্সিমার নিয়মে থাকছে একটি ব্যতিক্রম। আর্জেন্টিনা-ইতালির দ্বৈরথের ফল যদি নির্ধারিত সময়ে না আসে, খেলা সরাসরি টাইব্রেকারে চলে যাবে। অতিরিক্ত সময়ের খেলা থাকছে না।
আগে কেবল দুবার ‘ফিনালিস্সিমা’ দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। তখন ম্যাচটির নাম ছিল আর্টেমিও ফ্রাঞ্চি ট্রফি।
১৯৮৫ সালে প্রথম আসরে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। পরে ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টিনা ও ডেনমার্কের উত্তেজনাপূর্ণ খেলা নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকে। টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জয় পায় ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর ও একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবার হতে চলেছে ফিনালিস্সিমা। ধ্রুপদী লড়াইয়ের আগে এগিয়ে কোন দল? ৪৫ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও সাড়ে ৮ কেজি ওজনের নজরকাড়া ট্রফিটি যাবে কার হাতে? অনেক প্রশ্ন সামনে। তার আগে ঘেঁটে দেখা যাক পরিসংখ্যান ও নিকট অতীত কী বলছে।
এপর্যন্ত ১৫ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে আজ্জুরিদের জয়ের পাল্লা ভারি। ৬ ম্যাচে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে নীল জার্সিধারী দলটি। বিপরীতে আলবিসেলেস্তেদের জয়ের সংখ্যা ৫। ড্র হয়েছে ৪ ম্যাচ। শেষ চার দেখায় জয়ী আকাশী-নীলরাই। ২০১৮ সালে প্রীতি ম্যাচে তারা ইতালিকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল।
গতবছর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা ইতালি কাতার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। দলটির মনের দগদগে ক্ষত বিশ্বআসরে যেতে না পারার। রবের্তো মানচিনির শিষ্যরা শেষ ৬ ম্যাচে মাত্র ২টিতে জিতেছে, ২টি হার। চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফের সেমিতে নর্থ মেসিডোনিয়া এবং গত অক্টোবরে উয়েফা নেশনস লিগের সেমিতে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা টাটকা তাদের।
অন্যদিকে ফিনালিস্সিমার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই থাকবে লিওনেল স্কালোনির দল। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে মেসিরা টানা ৩১ ম্যাচ অপরাজিত আছেন। ২০২২ সালে খেলেছে ৪ ম্যাচ, যার মধ্যে ৩ জয় ও এক ড্র আর্জেন্টিনার। শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হোঁচট খেয়েছিল। দীর্ঘ খরার পর জাতীয় দলকে গত বছর কোপা আমেরিকা জেতানো স্কালোনি ঝুলিতে আরেকটি ট্রফি যোগ করার আশায়।
ইতালির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েল্লিনি জাতীয় দলের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামছেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ডমেনিকো বেরার্দি এবং আন্দ্রেয়া পিনামন্তি চোটের কারণে দলে নেই। জর্জিনহো, লিওনার্দো বোনুচ্চি, মার্কো ভেরাত্তি, লরেঞ্জো ইনসিগনে, নিকোলা জানিওলো এবং মোইসে কিনের মতো সিনিয়রদের পারফরম্যান্সের উপর ইতালিকে নির্ভর করতে হবে।
লিওনেল মেসি এবং অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার ঝলকের প্রত্যাশায় থাকবে আর্জেন্টিনা। ক্রিস্টিয়ানো রোমেরোও মাঠে নামবেন। অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন নেহুয়ান পেরেজ।
ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দুটি ভিন্ন জাতীয় দলে খেলার ঘটনা আছে অনেক। কিন্তু দুদেশের জাতীয় দলে একই ম্যাচ খেলার জন্য ডাক পাওয়ার ঘটনা প্রথম ঘটেছে। তিনি ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত আর্জেন্টাইন ফুটবলার মার্কোস সেনেসি। ইতালি এবং আর্জেন্টিনা দলে ডাক পেয়েছেন ২৫ বর্ষী ডিফেন্ডার। শেষপর্যন্ত ডাচ ক্লাব ফেয়েনর্ডের ডিফেন্ডার আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হতে পারে তার অভিষেক।








