এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ভারত প্রথমবার পেয়েছে মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা। নাভি মুম্বাইয়ে ঐতিহাসিক রাত উপহার দিয়েছেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর-স্মৃতি মান্দানারা, সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বজয়ী হয়ে মাঠ ছাড়েন শেফালি ভার্মা-জেমিমাহ রদ্রিগেজরা। ম্যাচের পর কৌর বললেন সাফল্য ঘিরে সব কথা। জানালেন ভালো লাগাল বিষয়গুলো এবং শেফালিকে বোলিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেন নিলেন সেটিও।
ম্যাচ শেষের পরও কৌরের বেশ কিছুক্ষণ লেগেছে বুঝতে যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেতাব এসে গেছে। বলেছেন, ‘এখনও যেন বুঝে উঠতে পারছি না, কীরকম অনুভব করছি তা প্রকাশ করা কঠিন। যেন অবশ হয়ে আছি। কিছুই বুঝতে পারছি না। এ যাত্রায় অনেক উত্থান-পতন ছিল, আমাদের দলের আত্মবিশ্বাস কখনও নেমে যায়নি। প্রথমদিন থেকেই বলেছি, আমরা ডান-বাম কিছু দেখিনি, কেবল শেষ লক্ষ্যের দিকেই তাকিয়েছিলাম। প্রথম বল থেকেই মনে হচ্ছিল আমরা জিতব। শেষ তিন ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। আমরা অনেকদিন ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছি। জানতাম কঠিন কন্ডিশন থাকবে, কিন্তু স্মৃতি আর শেফালি প্রথম ১০ ওভার দারুণ সামলেছে, ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে। টস হারলেও বিশ্বাস হারাইনি।’
ওপেনার প্রাতিকা রাওয়াল লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে গেলে পরিবর্তে আসেন শেফালি। কৌর বললেন, ‘প্রাতিকার চোটে সবাই কেঁদেছিলাম, কিন্তু লক্ষ্য ছিল ট্রফি। শেফালি শেষ মুহূর্তে দলে সুযোগ পায়। যখন দলে এলো, তখনই বলেছিলাম তোমার কাছ থেকে হয়তো দুই-তিন ওভার লাগতে পারে। তখন বলেছিল, আপনি আমাকে বল দিন, আমি দলের জন্য ১০ ওভার করব। এত আত্মবিশ্বাস ছিল ওর। দলের জন্য ওর ইতিবাচক মনোভাব ও নিবেদন সত্যিই অসাধারণ। ওকে স্যালুট।’
‘যখন লরা আর সুনে ব্যাট করছিল, খুব ভালো খেলছিল। তখন শেফালিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছিলাম, আর যেভাবে ও ব্যাট করেছে, জানতাম এটা ওর দিন। ও বিশেষকিছু করছে। তাই নিজের অন্তরাত্মার কথা শুনেছি। মনে হচ্ছিল, ওকে এক ওভার দেই। জিজ্ঞাস করলাম, এক ওভার করতে পারবে? সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল। সবসময় দলের জন্য বল করতে চায়। মনে করি, সেটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’
এদিন উজ্জ্বল ছিল শেফালির ব্যাট। ৮ চারে ৭৮ বলে করেন ৮৭ রান। স্মৃতি মান্দানার সাথে গড়েন ১০৬ বলে ১০৪ রানের জুটি। বল হাতেও ছিলেন আক্রমণাত্মক। ৭ ওভারে ৩৬ রান খরচায় তুলে নেন ২ উইকেট।
আত্মবিশ্বাসের কথাও জানালেন কৌর, ‘প্রথম বল থেকেই বিশ্বাস ছিল, এটা কোন ব্যাপার নয়। আমরা সাধারণত টস জিতি না, জানতাম আগে ব্যাট করতে হবে। এটা নিয়ে হাসাহাসি চলছিল। লরা শতরান করছিল, কিন্তু আমরা ধৈর্য রেখেছিলাম। সাউথ আফ্রিকাকে কৃতিত্ব দিতে হবে, তারা অসাধারণ খেলেছে। শেষ মুহূর্তে একটু আতঙ্কে পড়েছিল, ঠিক সেই সুযোগে আমরা ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েছি। আমরা আগে থেকেই বলেছিলাম, ওরা যখন একটু নড়বড় করবে, তখন সুযোগ নিতে হবে। ঠিক সেসময় দীপ্তি এসে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলো নিয়েছিল।’
‘আমাদের লক্ষ্য ছিল সহজ। বড় স্কোরের কথা ভেবে চাপ না নেয়া। আমরা কেবল নিজেদের খেলাটা খেলতে চেয়েছিলাম, ৩০০ রানের আশেপাশে যেতে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত এক রান কম হল। তারপর আমরা দল হিসেবে মাঠে নেমেছিলাম। যখনই দরকার হয়েছে, উইকেট এসেছে। এখন মনে হচ্ছে সহজ, কিন্তু তখন ভীষণ টেনশন ছিল। লরা কোন সুযোগ দিচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত দারুণ লাগছে। ভাষায় বোঝাতে পারব না।’
‘শেষ ম্যাচের পরও আমরা বিশ্বাস রেখেছিলাম যে, টানা তিন ম্যাচ হারলেও এ দলটার মধ্যে কিছু বিশেষ আছে, যা সবকিছু ঘুরিয়ে দিতে পারে। প্রতিটি সদস্যই ইতিবাচক ছিল। সবাই জানত, পরের তিন ম্যাচে কী করতে হবে। প্রত্যেকে দায়িত্ব নিয়েছে, এই ফল তারই প্রতিফলন। আমরা বহু বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছি, কিন্তু একটা বড় টুর্নামেন্ট জয় ছাড়া পরিবর্তনের কথা বলা যেত না। আমরা সেটা করেছি। আমরা এই মুহূর্তটার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। সেটা জীবন্ত করে ফেলেছি। আমি ভীষণ গর্বিত এই দলের জন্য।’
কৌর-স্মৃতিরা অপেক্ষা করেছেন বিসিসিআই ভেন্যু নিয়ে কী করে সেটা দেখতে। কৌর বললেন, ‘যখন শুনলাম ভেন্যু বেঙ্গালুরু থেকে বদলে ডিওয়াই পাতিল হয়েছে, সবাই খুশিতে চিৎকার করেছিল। বলেছিলাম, আমরা ঘরে ফিরেছি। পুরনো বিশ্বকাপগুলো পেছনে ফেলে দিয়ে নতুন করে শুরু করেছিলাম। উৎসব চলবে সারারাত, আমরা এই মুহূর্তটার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। উদযাপন চলবে সারারাত। তারপর দেখা যাক, বিসিসিআই আমাদের জন্য কী পরিকল্পনা করেছে।’
প্রথমবার ফাইনালে ওঠা প্রোটিয়াদের শিরোপা জিততে রেকর্ড গড়তে হতো। ভারতের দেয়া ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হতো। ফাইনালে ১৬৬ রানের বেশি তাড়া করার রেকর্ড নেই। ২০০৯ আসরের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের এ সংগ্রহ তাড়া করেছিল ইংল্যান্ডের মেয়েরা। ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়াবাহিনী। ভারত তুলেছিল ৭ উইকেটে ২৯৮ রান। ৫২ রানের জয়ে আসে বিশ্বকাপ।







