চলে গেলেন ভারতের বিশিষ্ট কবি, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং লেখক প্রীতিশ নন্দী। বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাতে দক্ষিণ মুম্বাইতে নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৩ বছর। তার পুত্র কুশান নন্দী গণমাধ্যমকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বলিউড তারকারা প্রকাশ করেছেন গভীর শোক। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিকটতম বন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনুপম খের। ইনস্টাগ্রামে খের একটি আবেগপূর্ণ বার্তা শেয়ার করে লিখেছেন, প্রীতিশ নন্দীকে কেবল তার সৃজনশীল প্রতিভাই নয়, তার ব্যক্তিগত গুণাবলীর জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অভিনেত্রী কারিনা কাপুর প্রীতিশ নন্দীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে ‘চামেলী’ ছবির একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে কারিনা এবং প্রয়াত পরিচালক শুটিং ফ্লোরে এবং দুজনেই বেজায় হাসছেন। সঙ্গে রয়েছেন অপর্ণা সেন নিজেও। সেই ছবিতে কারিনা কিছুই লেখেননি। শুধুই ভালবাসা এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
অনুপম খের ও কারিনা কাপুর ছাড়াও নির্মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্ত, লেখক এবং অভিনেতা সুহেল শেঠ, পরিচালক মেঘলা গুলজার, মিলাপ জাভেরি প্রমুখ।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র প্রকাশনা পরিচালক এবং ‘দ্য ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়া’র সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছিলেন প্রীতিশ নন্দী। নন্দীর সাহিত্যিক অবদানও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৯০ এর দশকে ভারতের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল দূরদর্শনে ‘প্রীতিশ নন্দী শো’ বলে একটি জনপ্রিয় টকশো’এর সঞ্চালক ছিলেন তিনি।
সাংবাদিকতা এবং সাহিত্য সাধনার বাইরে, প্রীতিশ নন্দী চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসাবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘প্রীতিশ নন্দী কমিউনিকেশনস’ নামে একটি প্রোডাকশন হাউস, যেখানে থেকে বাণিজ্যিকভাবে সফল বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ছবি উপহার দিয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ‘প্যায়ার কে সাইড এফেক্টস’, ‘মীরাবাই নট আউট’, ‘আগ্লি অর পাগলি’, ‘শাদি কে সাইড এফেক্টস’ এবং ‘ঝংকার বিটস’। এছাড়াও একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসাবে ২০০০ দশকে ‘কাঁটে’, ‘চামেলী’, ‘হাজারো খোয়াইশে অ্যাইসি’ এর মত বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি নির্মাণে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।
চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৮ সালে কর্মাবীর পুরস্কার, ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রীতিশ নন্দী। – বলিউড হাঙ্গামা







