বিশ্বখ্যাত ফিলিপিনো চলচ্চিত্র নির্মাতা লাভ ডিয়াজ। লোকার্নো, ভেনিস থেকে কান- বিশ্বের সব দাপুটে চলচ্চিত্র উৎসবে যার ছবি প্রদর্শীত ও পুরস্কৃত হয়। সেই নির্মাতা এবার মুখ খুললেন নিপীড়িত ফিলিস্তিনের পক্ষে।
সম্প্রতি লাভ ডিয়াজ দোহা চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে একটি মাস্টারক্লাসে অংশ নেন এই গুণী নির্মাতা। পরে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার এক পর্যায়ে ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে নিজের অবস্থান জানান।
তিনি বলেন,“সিনেমায় সত্য খোঁজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সবাইকে গাজায় চলমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”
তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের উপর ক্রমাগত আক্রমণ নিয়ে লাভ ডিয়াজ বলেছেন,“এটা একটা দুঃস্বপ্ন। অবশ্যই, আমরা এর বিরুদ্ধে কিছু করছি। কিন্তু এটা এমন এক ধরনের গতিপথ, যেটি একদিন আমাদের নির্মূল করতে হবে।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস আক্রমণের পর থেকে ইসরায়েল গাজায় ৫০,০০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং এটি প্রায় অবাসযোগ্য করে তুলেছে। এ নিয়ে ডিয়াজ বলেন,“গাজায় এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে যথেষ্ট বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তা বাস্তব এবং মানবতার পক্ষে একটি বড় বিপর্যয়। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, বেশীরভাগ সময় এই বর্বর হামলার শিকার হচ্ছে শিশুরা, এটি সবচেয়ে খারাপ। এটা এমন একটি অপরাধ যা আপনি কখনো মানবতার বিরুদ্ধে করতে পারবেন না। নির্দোষ ছোট বাচ্চাগুলো মারা যাচ্ছে, যারা এই পৃথিবীতে বেঁচে আছে, তারাও একেবারে সহায়সম্বলহীন। কী অপচয়। এটা দুষ্টুমি।”
তিনি বলেন, একদিন তিনি হয়তো গাজায় যা হচ্ছে তা নিয়ে একটি সিনেমা তৈরি করবেন। “আমি মনে করি, আমি যা কিছু কাজ করেছি, তা এই ধরনের জুলুমের জন্য উৎসর্গিত। আমি শুধু আশা করি একদিন কেউ থাকবে এই গল্পটি বলার জন্য। তবে ব্যাপারটা হল, যতক্ষণ মানুষ লড়াই করছে, আপনি কখনো সত্যকে চাপা দিতে পারবেন না। মানবতা সত্যের জন্য লড়াই করার মতো সহনশীলতা রাখে।”
ডিয়াজ বলেন,“এখনো অনেক কিছু আছে যেটার জন্য লড়াই করতে হবে, বিশেষ করে সত্যের বিষয়টি।” তিনি আরও বলেন, “আমি যখনই ঘুম থেকে উঠি, আমি নিজেকে প্রশ্ন করি। হয়তো আমি সিনেমা বানানো বন্ধ করে দেব, কিন্তু না। এখনো অনেক কিছু আছে যেটার জন্য লড়াই করতে হবে, বিশেষ করে সত্যের বিষয়টি।”
ডিয়াজ, সবকিছু সত্ত্বেও আশাবাদী থাকার কথা বলেন। ইতিবাচক মনোভাব রাখার কথাও বলেন তিনি।
দীর্ঘ সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যই বেশী পরিচিত লাভ ডিয়াজ। তার কোনো কোনো ছবি চার ঘণ্টা, কোনোটা ৫ ঘণ্টা বা তারচেয়ে বেশী। তার কাছে সিনেমা মানেই ধৈর্য এবং অনুভব! তার বিখ্যাত দীর্ঘ সিনেমা হল ‘হেরেমিয়াস’, যার দৈর্ঘ্য ৫১৯ মিনিট! এছাড়া ‘ডেথ ইন দ্য ল্যান্ড অব এনকান্তস’ এর দৈর্ঘ্য ৫৪১ মিনিট এবং ‘ইভ্যুলুশন অব ফিলিপিনো ফ্যামিলি’ এর দৈর্ঘ্য ৬২৪ মিনিট!
সর্বশেষ তিনি নির্মাণ করেছেন ‘ম্যাগেলান’, এটির দৈর্ঘ্য ৯ ঘণ্টা। মেক্সিকান তারকা গায়েল গার্সিয়া বার্নাল অভিনীত ছবিটি উৎসবের জন্য পৌনে তিন ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত ভার্সনও করেছেন। লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব দিয়ে খ্যাতি পাওয়া এই নির্মাতার দুটি ছবি দেখানো হয়েছে কানের আঁ সার্তে রিগা এবং ডিরেক্টর ফোর্টনাইটে! যদিও তার বেশীরভাগ সিনেমা দেখানো হয়েছে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে।
২০১৬ সালে ‘দ্য ওমেন হু লেফ্ট’ এর জন্য গোল্ডেন লায়ন জিতেছিলেন লাভ ডিয়াজ। শুধু তাই নয়, এটি ছাড়াও আরো ৫টি সিনেমা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে।-আনাদোলুক







