‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা খুবই কঠিন হতে চলেছে। তারা যেকাউকে হারাতে পারে। বিশ্বকাপে সব দলই সমান। আমাদের সবসময়ের মতোই খেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, যা সবসময় আমরা করে থাকি।’
কাতার বিশ্বকাপের বাস্তবতায় নকআউটের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই, সেটা ভালোভাবেই উপলব্ধি করে কথাগুলো বলেছেন লিওনেল মেসি। অংশ নেয়া সব দলকেই সমান দৃষ্টিতে দেখার মানসিকতাও আর্জেন্টিনা অধিনায়কের কথাতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে খাদের কিনারা থেকে বেঁচে ফিরে সি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ডেনমার্ক ও তিউনিশিয়াকে টপকে গ্রুপপর্বের বাধা পার হওয়া অস্ট্রেলিয়া।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আহমাদ বিন আলী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় মুখোমুখি হতে চলা দল দুটির একটি জায়গায় রয়েছে বেশ মিল। উদ্বোধনী ম্যাচে হার দিয়ে শুরু হয়েছিল আসর। পরের দুই ম্যাচে তুলেছে জয়।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে আলবিসেলেস্তেদের দুঃস্বপ্নের শুরু হয়েছিল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে উড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকে আর্জেন্টিনা। আর অস্ট্রেলিয়া একমাত্র গোলে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে জয়ে নিজেদের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখে।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেসিরা হয় গ্রুপসেরা। আর ডেনমার্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে পা রাখে অজিরা।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি ভারসাম্যপূর্ণ। মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াদের নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সের দিনে কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে।
গত ইউরোর সেমিফাইনালিস্ট ডেনমার্ককে বিদায় করে রীতিমতো চমক দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আকাশী-নীলদের তাই প্রতিপক্ষকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ম্যাচ জেতানোর জন্য দারুণ সব খেলোয়াড় অজিদের রয়েছে। দলটি মেসিদের হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশায় রয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফুটবলার টিম কাহিল ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছেন, ‘আশা করব অস্ট্রেলিয়া সেরাটা দেখাবে। যদি মেসিকে থামাতে পারি, তাহলে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারব।’
শেষ ষোলোতে সেই আর্জেন্টিনাকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কাহিলের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেলে তা হবে বড় অঘটন। সামর্থ্য ও বাস্তবতার নিরিখে মেসি-ডি মারিয়াদের হারানোর সম্ভাবনা অজিদের কমই বলা চলে।
কাগজে-কলমের হিসাবে আকাশী-নীলরা অনেকটাই এগিয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে তিনে আছে আর্জেন্টিনা। ৩৮তম স্থানে অস্ট্রেলিয়া। মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। সাতবারের দেখায় তারা জিতেছে পাঁচবার, একবার অস্ট্রেলিয়া। একটি ম্যাচ হয়েছিল ড্র।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনও দুদল মুখোমুখি হয়নি। তবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্লে-অফ ম্যাচে লড়েছিল। প্রথম লেগের খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ফিরতি লেগের খেলায় ২-১ গোলে জিতে মূলপর্বের টিকিট কেটেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল।
আর্জেন্টিনাকে হারাতে সুদূর অতীত থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৮ সালে তখনকার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা বিস্ময় জাগিয়েছিল। সেটাই ছিল দুদলের প্রথম আন্তর্জাতিক লড়াই। ৩২ বছর আগের সেই মধুর স্মৃতি কাতারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অজিরা করবে!
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, ‘সব ম্যাচই কঠিন। এখন আপনি যদি মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সহজ হবে, ভুল করছেন। তারা কত কঠিন দল তা দেখিয়েছে। আপনি যখন বিশ্বকাপে খেলেন এবং আপনার দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন আপনি পরিণত হন।’
অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের ভাষ্য, ‘নিজেদের কাজের নৈতিকতা, প্রতিশ্রুতি, লড়াই করে খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলেছে, এতে তাদের জন্য আমি গর্বিত। ডেনমার্ক বিশ্বের সেরা ১০ দলের একটি। তাদের অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় আছে, যারা বড় বড় লিগে খেলে। যেভাবে খেলেছি তাতে এটাই ভেবেছিলাম যে আমরা অসামান্য দল।’
আর্জেন্টিনার কোচ তো বটেই, মেসি নিজেই নিজের ফিটনেস নিয়ে সকল সন্দেহ দূর করে দিয়েছেন। ডি মারিয়া ঊরুতে অস্বস্তি বোধ করায় পোল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমেছিলেন। স্কালোনি খেলার পরে জানিয়েছেন, ডি মারিয়া ভালো আছেন। অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডেরও সবাই ফিট আছেন বলেই খবর।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, নাহুয়েল মোলিনা, রদ্রিগো ডে পল, মার্কোস আকুনা, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, জুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি।
অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশ: ম্যাট রায়ান, মিলস ডিজেনেক, হ্যারি সত্তার, কাই রোকেস, আজিজ বেহিচ, ম্যাথিউ লেকাই, অ্যারন মুয়ে, জ্যাকসন আরভিন, ক্রেইগ গুডউইন, রিলে ম্যাকগ্রে, মিচেল ডিউক।








