চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Oikko

জার্মানির সূর্য ডুবলো জাপানে

Oikko SME

সূর্যোদয়ের দেশে অস্ত যাচ্ছে না সূর্য। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারিয়ে এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় আপসেটের জন্ম দিয়েছে জাপান। জার্মানদের বিশ্বকাপের মঞ্চে খুব সহজে যেন ছাড়ছে না এশিয়ান দলগুলো। রাশিয়া বিশ্বকাপে সাউথ কোরিয়া কীভাবেই না তাদের ২-০ গোলে বিদায় করেছিল প্রথম রাউন্ড থেকে। সে কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে।

Reneta June

জার্মানির জন্য শুরুতেই বেশ বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াল জাপান। রিতসু দোয়ান আর তাকুমা আসানোর গোলে বিশ্বকাপের পরবর্তী হিসেবগুলো জার্মানদের জন্য একটু অন্যরকম হয়ে গেল। একটু এলোমেলো। জাপান কিপার শুচি গোন্ডার কথা ভুলে গেলে চলবে না। দারুণ সব সেভ করেছেন ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।

হান্স ফ্লিকের শক্তিশালী জার্মান দলটি বেশ আস্থা নিয়েই খেলা শুরু করেছিল এবং তার ফল-ও তারা পেয়ে যায় দ্রুত। গোন্ডার একটি ছোট ভুলের মাশুল গুণতে হয় জাপানকে। স্পট থেকে দারুণ এক পেনাল্টি জালে জড়ান গুনডোয়ান। জার্মানির এগিয়ে যাওয়া ছিল নজরকাড়া। প্রথমার্ধ তাদের পূর্ণ দখলেই ছিল। কিমিচ অসম্ভব পরিশ্রম করেছে।

ম্যানুয়েল নয়্যার কিপার হিসেবে জার্মানদের আগলে রেখেছে পেশাদারিত্বের সাথে। সমস্যা হচ্ছিল ওই একটি জায়গাতেই। দ্বিতীয় গোলটি পাচ্ছিল না জার্মানি। গুনডোয়ানের শটটি যখন লো-বারে লেগে বের হয়ে যায়, তখন জার্মানদের চোখে মুখে হতাশা দেখা গিয়েছে স্পষ্ট।

হুট করেই জাপানের অ্যাটাকে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় জার্মান দুর্গ। তাদের ডিফেন্সে ভালো চিড় ধরে যখন খেলার ৭৫ মিনিটে রিতসু দোয়ান নয়্যারের একটি সেভ নেট করে একদম পোস্টের মাঝ বরাবর। সেভটা নয়্যার যেভাবে করতে চেয়েছিলেন সেভাবে করতে পারেনি। একদম রিতসুর পায়ে গিয়ে পড়ে বলটি, যা গোলে ঢোকাতে কোনো সমস্যাই হয়নি।

জার্মানি আবারও খেলায় মনোযোগী হতে চায় মূলত মিডফিল্ড এবং উইং থেকে। ছোট ছোট পাস দিয়ে গিয়ে হঠাৎ একটা ক্রস কাজে লাগানোই তাদের লক্ষ্য ছিল। যেহেতু জার্মান প্লেয়ারদের উচ্চতা অনেক বেশি জাপানিজদের চেয়ে। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। সবকিছু পণ্ড করে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে একটি হাই বল পায় তাকুমা আসানো। অসাধারণ রিসিভ এবং তারপর ওয়ান ইয়ার্ড বলটিকে নিয়ে ডি-বক্সের ডান বরাবর এগিয়ে যাওয়াটাই ছিল দ্বিতীয় গোলটির মূলমন্ত্র।

তবে জার্মান লেফট ব্যাকের যথেষ্ট আলস্য ছিল এবং সে পুরোটা সময় আসানোকে আটকাতে চেয়েছে। এক সময় বুঝতে পেরেছে এখন আটকালে নিশ্চিত পেনাল্টি, কারণ আসানো ততক্ষণে ডি-বক্সের ভেতর। নয়্যার এগিয়ে এসে ব্লক করবেন এমন অবস্থাও ছিল না। আসানো ডান বরাবর গিয়ে একদম নয়্যারের বেশি কাছে যখন পৌঁছালেন, তখন বলা যায় গোলের সম্ভাবনা কমে এসেছে। অন্তত ফিফটি-ফিফটি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম সেরা কিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে বোকা বানিয়ে তার বামদিকে জালের একদম ছাদে বল জড়ালেন তাকুমা আসানো। যেটি সেভ করলে অলৌকিক কিছু হতো। আসানো অসাধারণ এক মুহূর্ত উপহার দিলেন জাপান সমর্থকদের।

লেফট ব্যাক হয়তো এখনো চুল ছিঁড়ছেন এই ভেবে যে ডি-বক্সে ঢোকার আগেই কেনো আসানোকে একটা পুশ করেননি তিনি। সর্বোচ্চ একটি হলুদ কার্ড জুটতো তার কপালে, গোল তো আর নয়।

যদিও সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারের চেয়ে বড় আপসেট আজ জাপানের কাছে জার্মানির হারে নেই, তবুও বলতেই হয় বড় দল ছোট দল কোনো দলই আসলে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিরাপদ নয়। নিরাপত্তা দিতে পারে শুধুই ভালো খেলা আর সময় অনুযায়ী যে খেলা প্রয়োজন, তা-ই খেলে যাওয়া। যারা সেই কাজটি করতে পারবে, তার হাতেই উঠবে বিশ্বকাপ, আবারও বলছি তা যে দলই হোক না কেনো।

Oikko Uddokta