গ্রুপ ‘সি’ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার ক্ষেত্রে ব্রাজিল এখন অনেকটাই সুরক্ষিত। গ্রুপের লড়াইয়ে হাইতিকে সকালে ব্রাজিল ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে। আগামী বুধবার শেষ ম্যাচ খেলতে হবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। আজ ৩-০ গোলে জয়লাভ ব্রাজিল ভক্তদের বেশ উদ্বেলিত করেছে। কিন্তু র্যাঙ্কিংয়ের বড় পার্থক্যে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। দলের কাসেমিরো, পাকুয়েতা, ভিনিসিয়াস জুনিয়রসহ কারো খেলাই এখন পর্যন্ত ভক্তদের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি। এ কারণেই ভেতরে ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে। কেননা নকআউট পর্বে আর কোনকিছুই রিভিউ করার সুযোগ থাকবে না।
তবে এই সময়ে ব্রাজিল ভক্তদের জন্য সুখের বার্তা নিয়ে এসেছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আজ ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেইমার খেলবেন এটি নিশ্চিত। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এই বার্তা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নেইমার বিহীন ব্রাজিলকে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে ভক্তদের। আর তাই তার খেলা দেখার জন্য ব্রাজিল ভক্তরা মুখিয়ে আছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি মাঠের বাইরে রয়েছেন চোটজনিত কারণে। তবে আগামী ম্যাচে খেলবেন এমন সংবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সৈয়দ মাসুক সাথী। জীবনভর ফরোর্য়াড জোনে খেলেছেন। ক্রীড়াঙ্গনে ‘যশোরের ফুটবলার সাথী’ বলে ট্রেডমার্ক পাওয়া মাসুক সাথী বরাবরই ব্রাজিলের সমর্থক। স্বভাবতই ব্রাজিলের খেলা দেখতে ভুল করেন না। কিন্তু গ্রুপের দুম্যাচে ব্রাজিলের খেলা তাকে মন ভরাতে পারেনি। সাবেক ফুটবলার সাথীর মতে, ব্রাজিলের খেলায় যে অনবদ্য ছন্দ ছিল, সেই ছন্দ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ঘাটতি চোখে পড়ছে। ফলে সংশয় থেকে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় স্কটল্যান্ডের মধ্যেকার ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না।
সাথী বললেন, ‘স্কটল্যান্ড বেশ ভালো দল। এই দলটি মরক্কোর কাছে হারলেও ব্রাজিলকে সবদিক দিয়েই চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে। কোচ স্টিভ ক্লার্ক সেরকম ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফলে ব্রাজিল এই ম্যাচে সহজে পার পাবে না।’
তিনি আরও বললেন, ব্রাজিলের কোচ অনেকটাই নিশ্চিত করেছেন গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেইমার খেলবেন। সন্দেহ নেই তার খেলার দেখার জন্য ব্রাজিল ভক্তরা যেমন পথ চেয়ে আছেন তেমনি দুনিয়ার ফুটবল বিশেষজ্ঞরাও মুখিয়ে আছেন। আমরাও নেইমারের দিকে চেয়ে আছি। কিন্ত নেইমার অনেক ধরনের টানাপোড়নের মাঝে আছেন। ফলে তার কাছ থেকে শতভাগ পাওয়া যাবে কিনা সেটা আগামী ম্যাচেই বলে দেবে। তবে ঘুরে ফিরে সেই আগের কথাই বলতে হয়। ব্রাজিলের খেলায় সেই ছন্দের সুষমা নেই।’
শুধু ব্রাজিল বলে নয়, সাবেক ফুটবলার সাথী মনে করেন এখন পর্যন্ত যতগুলো ম্যাচ হয়েছে সেসব ম্যাচে নতুন ট্যালেন্টকে দেখা যায়নি। ফলে ঘুরে ফিরে দেখা যাচ্ছে সেই পুরনো খেলোয়াড়দেরকে আবর্তিত করেই স্বপ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আর্জেন্টিনা দলেও একই অবস্থা। মেসির বাইরে কিন্তু মন কাড়তে পারেনি অন্য কেউ। ডি মারিয়াও নেই। দেখলাম সবাই গতানুগতিক। স্পেনেরও একই অবস্থা। পর্তুগালও তাই। ইংল্যান্ডও হ্যারি কেন নির্ভর। ফলে নতুন তারকার অনুসন্ধান এখন মেলেনি।
সাথী আরও বললেন, এই বিশ্বকাপে কী হবে বলা মুশকিল। এখন পর্যন্ত কোন দলকেই খুব আগ্রাসী ও আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে না। অবশ্য সময়ের সাথে সাথে বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে। গ্রুপের হিসেব নিকেশে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। তখনই বোঝা যাবে কোন কোন দল শক্তি, সামর্থ্যে, কৌশলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সবশেষে তিনি বললেন, ‘আজকের ম্যাচে ব্রাজিল সহজ জয় পেয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ ছিল তুলনামূলক দুর্বল। তাই ব্রাজিলের প্রকৃত সামর্থ্য এখনো পরিমাপ করার সময় আসেনি। রাফিনহার ইনজুরি সামনে ব্রাজিলের জন্য বড় সমস্যা হতে পারে, কিন্তু ভিনিসিয়াস, কুনহা এবং শক্তিশালী মিডফিল্ড ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে আবার বলবো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই ছন্দের সুষমা নেই।’







