আজ কারো সাধ্য নাই আগাম কিছু বলার: ওয়াসিম ইকবাল

A football game showing players in red and white jerseys competing for the ball in a stadium filled with spectators. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ী দল স্পেন। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দল ফ্রান্স। এই দুই দল আজ রাত একটায় ২৩তম বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আমেরিকার ডালাস স্টেডিয়ামে। স্প্যানিশ আধিপত্য, না ফরাসী বিপ্লব? এই প্রশ্ন জনমনে বেশ ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। আজ বিশ্বকাপ মঞ্চে কে বিজয়রথে চড়ে ফাইনালে যাবে? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। মাঠের পারফরম্যান্স আর নানান পরিসংখ্যান টেনে টালি করা হচ্ছে। কিন্তু সবশেষে স্পেন ও ফ্রান্স বলে কথা। দ্রুত রায় দেয়া সম্ভব নয়।
এবারের বিশ্বকাপের সব পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ফ্রান্সই বেশি এগিয়ে। মাঠে এমবাপে, ডেম্বেলে, ওলিসে বড় বেশি উদ্ভাসিত। সেই তুলনায় কিছুটা ম্রিয়মাণ ইয়ামাল, ওলমো, ফ্যাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনোরা। ব্যবধান একেবারেই কম। কিন্তু স্পেন বলে কথা। উড়িয়ে দেয়ার কিছু নেই। বরং মাঠে হিসাব নিকাশ দিতে হবে। তাই কাইলিয়ান এমবাপে যতই আগ্রাসী হোক, স্পেন তাকে মোটেও ফাঁকা মাঠ দেবে না। বরং তাকে আটকিয়ে রাখার নতুন কৌশল নিয়েও নামতে পারে স্পেন যোদ্ধারা।
এর আগে দেখা যাক পরিসংখ্যন কী বলে। ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্স ও স্পেন এপর্যন্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচে মোট ৩৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। এই দ্বৈরথের সামগ্রিক পরিসংখ্যান অত্যন্ত কাছাকাছি। অবশ্য স্পেনের পাল্লা একটু বেশি। স্পেন যেখানে ১৭টি জয় নিয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে, সেখানে ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি ম্যাচ। বাকি ৭টি ম্যাচ অমীমাংসিত থেকেছে। দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাস এবং বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও, অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এই দুই দল মাত্র একবারই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল।
সেই একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ জুন জার্মানি বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ। হ্যানোভারে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স শুরুতেই স্পেনের ডেভিড ভিয়ার পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু ফ্রান্স অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ফ্রান্সের পক্ষে গোল করেন ফ্র্যাংক রিবেরি (৪১মি.), প্যাট্রিক ভিয়েরা (৮৩মি.), এবং তুখোড় স্ট্রাইকার জিনেদান জিদান (৯২মি.)। দুদলের জন্য বিশ্বকাপের এই স্মৃতিটুকই সম্বল। এর বাইরে আর কিছু নেই।
সর্বশেষ এই দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৬ জুন উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে ৫-৪ গোলে জয় পায় স্পেন। লামিন ইয়ামাল জোড়া গোল করেছিলেন। এছাড়া আরও গোল করেন নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনো এবং পেদ্রি। অন্যদিকে ফ্রান্সের পক্ষে গোল করেছিলেন কাইলিয়ান এমবাপে, রায়ান চেরকি, ড্যানিয়েল ভিভিয়ান এবং রান্দাল কোলো মুয়ানি।
আজকের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার খোন্দকার ওয়াসিম ইকবাল বলছিলেন, অতীতের ফলাফল আর স্মৃতি ঘেঁটে লাভ নেই। কেননা বিশ্বকাপের আজকের ম্যাচের গভীরতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মেজাজ অন্যরকম। সেখানে কে জয়ী হবে সেটাই বিবেচ্য। লড়াইটা হবে আজ মাঠে। বাঁচামরার এই লড়াই কতোটা আকর্ষণীয় হয় সেটাও দেখার বিষয়। কে জিতবে ফ্রান্স না স্পেন? এমন প্রশ্নে ওয়াসিম ইকবালের সাফ জবাব, ‘সামর্থ্য ও সক্ষমতায় দুই দলই সমান সমান টিম। শুধু একটু পার্থক্য ফ্রান্স দলে একজন এমবাপে রয়েছে। যে কিনা যেকোনো সময় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। অদম্য সে। খুব ভালো খেলছে। তাকে কীভাবে স্পেন সামাল দেবে সেটা মাঠেই পরিস্কার হবে।’
খেলা কতোটা নান্দনিক হবে? ওয়াসিমের মতে, ‘এই ম্যাচটা হিসেবে খুবই সুন্দর হওয়ার কথা। সবকিছু বলছে ম্যাচ হবে সৌন্দর্যময়। কিন্তু এই প্রত্যাশা ভেঙেও যেতে পারে। এর আগেও আমরা দেখেছি। তবে দুটি দলই ইতিবাচক ফুটবল খেলে। সেই নিরিখে এই ম্যাচটা বেশি সুন্দর হবে।’
যদি কোন কারণে স্পেন এগিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ফ্রান্স কী মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়বে? ওয়াসিম ইকবাল মনে করেন সেরকম কিছু ঘটতে গেলেও শেষ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত একজন খেলোয়াড় চেষ্টা করে যাবে পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে। আর তিনি হলেন এমবাপ্পে। সুতরাং শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।
সবশেষে ওয়াসিম ইকবাল আবারো বলেন, ‘আজকের ম্যাচে ফ্রান্স একটু এডভান্স আছে। কিন্তু ঠাণ্ডা মাথার স্পেন আপনাকে উত্যক্ত করে জয় ছিনিয়ে নিতে কার্পণ্য করবে না। ফলে একক রায় দেওয়ার কিছু নেই। খেলা অতিরিক্ত সময়ে যেতে পারে। পেনাল্টি শুট হতে পারে। বহুবিধ ক্লাইম্যাক্স আর রোমাঞ্চকর ঘটনার আসর আজই বসবে বলে মনে হচ্ছে। ম্যাচটা দুর্দান্ত হোক এবং ভীষণ উপভোগ্য হোক।’






